বাসস
  ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩৬
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৪২

চাহিদা ভালো থাকায় মিষ্টি আলু চাষে ঝুঁকছেন শেরপুরের কৃষকরা 

শেরপুরের ৫টি উপজেলায় চলতি বছর ২৫৬ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছে।ছবি: বাসস

\ জাহিদুল খান সৌরভ \

শেরপুর, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : কম খরচে বেশি লাভ ও চাহিদা ভালো থাকায় জাপানি কোকেই-১৪ জাতের মিষ্টি আলু চাষের দিকে ঝুঁকছেন শেরপুরের কৃষকরা। এদিকে চলতি মৌসুমে ফলন ভাল হওয়ায় শেরপুরের মিষ্টি আলু বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

শেরপুর সদরের চরাঞ্চলের কৃষকরা বাসস’কে বলেছেন, অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি মিষ্টি আলু চাষ অত্যন্ত লাভজনক। চারা রোপণের মাত্র ১২০ দিন পর এই সবজি বিক্রির উপযোগী হয়। আর এই আলু চাষে বিঘা প্রতি খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি লাভ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাপানি জাতের মিষ্টি আলু কোকেই-১৪ চাষে জমিতে বাড়তি কীটনাশক, সেচ, রাসায়নিক সার ও শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। এছাড়া এই জাতের মিষ্টি আলুতে বিঘা প্রতি ফলন প্রায় ৮০ মন এবং হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১২ টন।

শেরপুর সদরের বেতমারি-ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের রশীদপুর গ্রামের কৃষক আমির হামজা (৪৫) বাসসের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, গত বছর প্রথমবারের মতো ১ বিঘা জমিতে জাপানি জাতের আলু কোকেই-১৪ এর চাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা মত বিক্রি করেছি। ভাল ফলন ও লাভ হওয়ায় এ বছর ২ বিঘা জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ করেছি। এবার দেড় লাখ টাকার বেশি বিক্রির আশা করছেন তিনি। 

তিনি আরওে বলেন, অন্যান্য ফসলের পাশাপাশিও মিষ্টি আলু চাষ লাভজনক। এছাড়া এই আলু তোলার পর একই জমিতে পাট ও অন্য সবজি চাষ করেও বাড়তি টাকা আয় করা যায়।

সদর উপজেলার কামারের চর ইউনিয়নের কৃষক শমসের আলী (৫০) বলেন, আমরা চরাঞ্চলের জমিতে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করতাম। কিন্তু লাভ তুলনামূলক কম ছিল। পরে জাপানি কোকেই-১৪ জাতের মিষ্টি আলুর চাষ শুরু করি। এখন ভালো ফলন পাচ্ছি এবং বাজারেও চাহিদা বেশি।

তিনি বলেন, এ জাতের আলু চাষে খরচ কম এবং পরিচর্যাও সহজ, তাই লাভ বেশি হচ্ছে। যদি সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা যায়, তাহলে আরও অনেক কৃষক কোকেই-১৪ জাতের মিষ্টি আলু চাষে আগ্রহী হবেন।

শেরপুর সদরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সামিউল ইসলাম (৩৫) বাসস’কে জানান, মিষ্টি আলুতে রয়েছে, ভিটামিন এ ও সি, খনিজ পদার্থ, ক্যালসিয়ামসহ অন্যান্য পুষ্টি উপকরণ। ফলে এই আলু হৃদরোগ, ডায়াবেটিকস ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

নারুতো জাপান কোম্পানি লি. ফিল্ড সুপারভাইজার মো. জাকারিয়া বলেন, চলতি বছর শেরপুর সদরের ৫০ জন কৃষককে বিনামূল্যে মিষ্টি আলুর লতা ও রাসায়নিক সার সরবরাহ করা হয়েছে। মিষ্টি আলু বিদেশে রপ্তানি করা গেলে একদিকে যেমন বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবে। অন্যদিকে দেশের কৃষকরা লাভবান হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বাসস’কে বলেন, শেরপুরের ৫টি উপজেলায় চলতি বছর ২৫৬ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছে। জাপানের পাশাপাশি শেরপুরের মিষ্টি আলুর চাহিদা থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াতেও রয়েছে। তাই নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে ২শ’ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি হবে বিদেশে। এছাড়া বাংলাদেশের সুপার শপগুলোতেও মিষ্টি আলুর চিপস, বিস্কুট ও কেক বেশ জনপ্রিয়।