বাসস
  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫৫

কিশোরগঞ্জে দুটি হাসপাতাল থেকে ১৭ দালাল গ্রেফতার

কিশোরগঞ্জ, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): ‘কম খরচে চিকিৎসা’, ‘দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ কিংবা ‘উন্নত চিকিৎসা’র প্রলোভন দেখিয়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়ার অভিযোগে দালাল চক্রের ১৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার দিনভর কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে ৩২ জনকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

পুলিশ সুপার বলেন, সরকারি হাসপাতালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি দালাল চক্র সক্রিয় থাকার তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জড়িতদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়।

ওই তালিকার ভিত্তিতে মঙ্গলবার পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে দুই হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৩২ জনকে আটক করার পর তাদের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের টার্গেট করতেন। প্রথমে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতেন তারা। এরপর ‘কম খরচে চিকিৎসা’, ‘দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ কিংবা ‘উন্নত চিকিৎসা’র কথা বলে তাদের সরকারি হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেতেন।

পুলিশের ভাষ্য, দালালদের এমন প্রলোভনে পড়ে অনেক রোগী ও স্বজন হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থও ব্যয় করতেন। বিশেষ করে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চিকিৎসার জন্য আসা অসহায় ও সাধারণ রোগীরাই এসব দালালের প্রধান টার্গেট ছিলেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি হাসপাতাল এলাকায় কোনো ধরনের দালালচক্রের তৎপরতা সহ্য করা হবে না।