বাসস
  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৫৮

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ে ড. ইউনূসের সঙ্গে সাসাকাওয়ার বৈঠক

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নিয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন বিষয়ে জাপানের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

 আজ সোমবার ঢাকার ইউনূস সেন্টারে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

জাপানি প্রতিনিধিদলে ছিলেন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি শোটা নাকায়াসু, আন্তর্জাতিক কর্মসূচির সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার ফ্রাঞ্জ কেন কুরিবায়াশি, আন্তর্জাতিক কর্মসূচির সিনিয়র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর তোরু কিমুর, দোভাষী মিস কিমিয়ো মাচিদা, সেন্টার ফর মেডিয়েশন সাপোর্টের পরিচালক ড. আকিকো হোরিবা, সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো এবং রিকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাওনোরি কুসাকাবে এবং ড. শিহো তানাকা।

গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান এবং ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ এ সময়  উপস্থিত ছিলেন বলে ইউনূস সেন্টারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

এতে আরও বলা হয়,  বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আঞ্চলিক যোগাযোগ, সামাজিক ব্যবসা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় সাসাকাওয়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া এবং অর্ন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করায় তাঁকে অভিনন্দন জানান।

 তিনি বাংলাদেশ-জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং বিশ্বজুড়ে সম্পদের ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীকরণ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

জুলাই আন্দোলনে তরুণদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে সাসাকাওয়া বলেন, তাদের আত্মত্যাগকে অর্থবহ করতে তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টির  প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এছাড়া বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পায়। ড. ইউনূস রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সুস্পষ্ট পরিচয় ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ছাড়া বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্ম হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে। 

সাসাকাওয়া জানান, তিনি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবেন।

এ সময় বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, গভীর সমুদ্রবন্দর ও আঞ্চলিক যোগাযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। আধুনিক বন্দর অবকাঠামো ও কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে পারে বলে উল্লেখ করেন ড. ইউনূস।