শিরোনাম

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করতে হবে এবং বিনিয়োগকে উৎপাদনমুখী করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের আয়োজনে আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন অধ্যয়ন’ বিষয়ক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিতুমীর বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ। আমাদের দর্শন হচ্ছে সবার জন্য বাংলাদেশ, সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ এবং সবার বাংলাদেশ। সে কারণেই ইশতেহারে বর্ণিত সকল প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের নতুন মডেল হচ্ছে বিনিয়োগ থেকে উৎপাদন। বিনিয়োগে যেতে হবে এবং সেটা উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ হতে হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও যোগাযোগব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, কোনো ব্যবসায়ীর বিনিয়োগ কাজ করবে না, যদি নিরাপদ জ্বালানি অবকাঠামো না থাকে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে চেম্বার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পঞ্চগড় থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশে বিদেশিদের বিনিয়োগ আগ্রহের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে চীন এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া আরও বিনিয়োগ করতে চায়। জাপানিরা এখানে উৎপাদনশিল্প করতে চায়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একটা বড় বিষয়।
বিদেশি ঋণ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, ঋণ নেওয়ার বিপরীতে কী ধরনের সুফল পাওয়া যাবে, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব কী হবে এসব বিবেচনায় রাখতে হবে। বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে অস্থিরতা বেশি দেখা যায়।
রাজস্ব আহরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর অব্যাহতি, কর জালিয়াতি ও কর ফাঁকি কমানো গেলে করহার না বাড়িয়েও রাজস্ব আহরণ বাড়ানো সম্ভব।
তিতুমীর বলেন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে লেখাপড়াকে আনন্দময় করে তুলতে হবে। উচ্চ বিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিজেদের পছন্দ ও সক্ষমতা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
সরকারের কর্মকাণ্ডের বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিতুমীর বলেন, ‘আপনারা সরকারের সমালোচনা করুন। যেকোনো দেশের সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সমালোচনা-আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের পাশাপাশি দক্ষতা গঠন ও বহুভাষিক শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থায় উদ্ভাবন নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষায় অর্থায়নের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব, অর্জন ও উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগকে জনকল্যাণের বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।