বাসস
  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০৭

বাল্যবিবাহ সামাজিক সংকট ও নারীদের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা : মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। ফাইল ছবি

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : বাল্যবিবাহ কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং এটি সামাজিক সংকট ও নারীদের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, ‘অনেক পরিবার মনে করে মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হলো। কিন্তু এটি বহুগুণ বড় সংকটের জন্ম দেয়। দারিদ্র্য কোনোভাবেই শিশুর পড়াশোনা কেড়ে নেওয়ার অজুহাত হতে পারে না। কন্যাসন্তানকে সুরক্ষা ও মর্যাদা দিয়ে বড় করলে সে-ই পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠে।’

আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবর্তিত বাংলাদেশে নারীরা সব ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সাম্প্রতিক এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলই এর বড় প্রমাণ। সরকার এমন এক সাম্য ও নিরাপত্তার সমাজ গড়তে চায়, যেখানে মেয়েরা সুশিক্ষা পেয়ে আত্মনির্ভরশীল হবে এবং কন্যাশিশুকে বোঝা না ভেবে সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হবে।

নারী শিক্ষার প্রসারে বিগত বিএনপি সরকারের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু হয়েছিল, যা বর্তমান নির্বাচিত সরকার স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীর সামগ্রিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

মাহদী আমিন আরও জানান, মায়েদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে এবং ঝরে পড়া রোধে প্রাথমিকে মিড-ডে মিল, স্কুল ড্রেস ও উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বয়স বাড়িয়ে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে দেওয়াকে বেআইনি উল্লেখ করে তিনি এর বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন, বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুন ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি ডিরেক্টর নীলিমা ইয়াসমিনসহ কূটনীতিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।