বাসস
  ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:১৭

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত ডব্লিউপিএস কর্মপরিকল্পনার তাগিদ শামা ওবায়েদ ইসলামের

রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডেভেলপিং বাংলাদেশ’স নিউ-জেনারেশন ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান অন ডব্লিউপিএস’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে একটি সমন্বিত, বাস্তবসম্মত ও পরিমাপযোগ্য দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনএপি) প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডাকে এগিয়ে নেওয়া কেবল একটি বৈশ্বিক অঙ্গীকারই নয়; বরং এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও যৌথ কর্তব্য।’

আজ রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডেভেলপিং বাংলাদেশ’স নিউ-জেনারেশন ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান অন ডব্লিউপিএস’ শীর্ষক দু’দিনের কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশ যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করেছে। আগামীকাল (সোমবার) এটি শেষ হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে সাথে নিয়ে ডব্লিউপিএস এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অঙ্গীকারবদ্ধ।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি এই এজেন্ডার প্রতি দেশের ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি ২০১৯-২০২৫ মেয়াদে গৃহীত বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় কর্মপরিকল্পনার পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরেন, যা ইউএন উইমেনের সহায়তায় বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে।

বক্তব্যে শামা ওবায়েদ মেয়েদের শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার গৃহীত নানা উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন।

পাশাপাশি বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার নারীর শিক্ষা, উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং সংস্কৃতি ও ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ বাড়াতে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলোও তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য এই কর্মপরিকল্পনাটি হতে হবে সুপরিকল্পিত, পর্যাপ্ত অর্থায়নসম্পন্ন এবং কার্যকরভাবে সমন্বিত।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পরিকল্পনার মূল মালিকানা থাকতে হবে সেই নারীদের হাতেই, যাদের সেবায় এটি তৈরি করা হচ্ছে।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশে ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং বলেন, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তার মজবুত ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করার বড় সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে।

তিনি মাঠপর্যায়ের এর বাস্তবায়ন, নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ, পরিমাপযোগ্য ফলাফল এবং জবাবদিহিতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় গ্রুপের সদস্য এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন, যারা বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের ডব্লিউপিএস রূপরেখা তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন।

জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি কার্যকর রূপরেখা প্রস্তুত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।