শিরোনাম

লালমনিরহাট, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, বিদ্যালয়ের পাঠদান চলাকালে কোনো কোচিং সেন্টার পরিচালনা করা যাবে না। এ নির্দেশ অমান্য করা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে এবং প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে কোচিং কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
আজ বিকেলে জেলা শহরের চার্চ অব গড মিশন ক্যাম্পাসে শিক্ষার মানোন্নয়নে সদর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বিদ্যালয়ে যথাযথভাবে পড়াশোনা না করে অনেক শিক্ষার্থী কোচিং সেন্টার নির্ভর হয়ে পড়ছে। বিদ্যালয়ে সামান্য বেতন দিতে না পারলেও কোচিং সেন্টারে কয়েকশ’ টাকা ব্যয় করছে। কোচিংয়ে পড়লেই ভালো ফল করা যায়, এমন ধারণা পরিবর্তন করতে হবে।
তিনি বলেন, কোচিং সেন্টারগুলোকে প্রথমে চিঠির মাধ্যমে সতর্ক করা হবে। এরপরও বিদ্যালয়ের পাঠদান চলাকালে কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তা বন্ধ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়গুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিনোদন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ বাড়ানো এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক স্থানে শিক্ষা সফরের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যুগোপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে পাঠদান করতে হবে। বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীরা যেন কোচিংয়ের চেয়ে বেশি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সে ধরনের শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
বিদ্যালয়ে যথাযথভাবে পাঠদান না করে কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতার অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে কোনো শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিতভাবে অবহিত করতে হবে। প্রয়োজনে শ্রেণি শিক্ষকরা প্রতিদিন কয়েক মিনিট করে বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জানাবেন।
মন্ত্রী বলেন, কোনো শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর অভিভাবক তদবির করলেও তাকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কোনো ছাড় দেবেন না।
শিক্ষার্থীদের আগেই বিষয়টি জানানো হয়েছে— এমন প্রমাণ রাখতে প্রয়োজনে সচেতনতামূলক বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিদ্যালয়গুলোর ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন ত্রাণমন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাসেল মিয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুখসানা পারভীন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ফারুক সিদ্দিকসহ জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।