বাসস
  ৩১ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩৩

কূটনীতিকদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইনডোর গেমস আয়োজন

ছবি : মন্ত্রণালয়

ঢাকা, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করতে ঢাকায় দ্বিতীয় ‘ডিপ্লোম্যাটিক ইনডোর গেমস ২০২৬’ আয়োজন করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৮ ও ২৯ আগস্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি)-তে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন হয়। এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি ইনিশিয়েটিভ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী আয়োজন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

গেমসের উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে আস্থা ও বোঝাপড়ার ভাষা হিসেবে খেলাধুলা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই আয়োজন আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদার ও দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রথাগত কাঠামোর বাইরে খোলামেলা আলোচনা এবং সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি সহজ সুযোগ তৈরি করেছে।’

দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এ গেমসে ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিসে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে ঢাকার কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সদস্যরা আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পরিবেশের বাইরে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পান।

বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, মিসর, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলও এতে অংশ নেয়। এছাড়া জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইউএনডিপি, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), আন্তর্জাতিক অর্থ কর্পোরেশন (আইএফসি) এবং আইএসডি’র প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

আইএসডি’র পরিচালক মাইক মিলার জানান, কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সদস্যদের তাদের ক্যাম্পাসে স্বাগত জানাতে পেরে স্কুলটি গর্বিত।

তিনি বলেন, ‘বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে একত্র হওয়া আমাদের আইবি কারিকুলামের মূল লক্ষ্যÑ বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক মানসিকতার প্রকৃত উদযাপনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এ আয়োজন কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকারি প্রতিনিধি ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং পেশাগত ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরো জোরদারের সুযোগ তৈরি করে।

খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘরোয়া আলোচনা ও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান, আতিথেয়তা স্থান এবং ম্যাচের মধ্যবর্তী সময়গুলো বিশেষভাবে সাজানো হয়।

ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিসের বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী ও রানার্সআপদের পুরস্কার দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার সমাপ্তি হয়।

ব্যাডমিন্টনের পুরুষ দ্বৈতে আইওএম-এর সোহেল বড়ুয়া ও মো. মোরশেদুল আলম মুন্না চ্যাম্পিয়ন হন। আইএসডি’র মানস ও ভাইসাক রানার্সআপ হন।

মিশ্র দ্বৈতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জেসন ও সায়েদা তাসমিন সুলতানা শিরোপা জয় করেন। ইন্দোনেশিয়ার সাপ্তো সুদিয়ান্তো ও নুর রানার্সআপ হন।

টেবিল টেনিস দ্বৈতে ডব্লিউএইচও’র মো. রুহুল কুদ্দুস ও মো. মোহসিন আজাদ শিরোপা জয় করেন। তাদেরই সহকর্মী নিউটন রনি দাস ও মো. সুজা উদ্দিন ভূঁইয়া রানার্সআপ হন।

টেবিল টেনিস এককে ইউএনডব্লিউএফপি’র আয়ান দেওয়ান চ্যাম্পিয়ন হন। ডব্লিউএইচও’র মো. রুহুল কুদ্দুস রানার্সআপ হন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলগুলোর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নজরুল ইসলাম।