বাসস
  ২২ আগস্ট ২০২৬, ২২:৫৯

সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ চার জনের মৃত্যু

সিলেট, ২২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে ট্যাংকলরির চাপায় একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন হলেন- জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামশী গ্রামের মৃত গফুর মিয়ার ছেলে নিয়ামত আলী (৩৫), তার স্ত্রী অজুফা বেগম (৩০) এবং ছোট মেয়ে আয়েশা আক্তার (৬)। তাদের পরিবারের একমাত্র ছেলে ইয়াকুব (৪) এবং বড় মেয়ে মারিয়া (১০) আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

দুর্ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক লালন মিয়াও (২৩) মারা গেছেন। তিনি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর মাঝেরবাড়ী গ্রামের মো. ফরিদ মিয়ার ছেলে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দুই অটোরিকশা যাত্রী জাওয়াদ এহসান শুভকে (৩০) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং ইয়াকুবকে হাসপাতালের ২৩ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, শেরপুর থেকে সিলেটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা তেলবাহী একটি ট্যাংকলরির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। স্থানীয়রা সঙ্গে সঙ্গে চালকসহ অটোরিকশার সাত যাত্রীকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নিয়ামত আলীর বড় ভাই গাজীরুল মিয়া জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে ছুটে এসে জানতে পারেন ভাই, ভাইয়ের বউ এবং ছোট ভাতিজি মারা গেছেন। একমাত্র ভাতিজা ও বড় ভাতিজি জীবিত। একজনের অবস্থা গুরুতর।

তিনি বলেন, তাদের পূর্বপুরুষের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে। ৩৫ বছর আগে জীবিকার তাগিদে তারা সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় স্থানান্তর হন। ছোট ভাই নিয়ামত তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অষ্টগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।

এদিকে, সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফন-কাফন ও আহতদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খুশনূর রুবাইয়্যাৎ শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে হতাহতদের স্বজনদের কাছে টাকা পৌঁছে দেন। পরে তিনি জানান, নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে প্রাথমিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।