বাসস
  ২১ আগস্ট ২০২৬, ১৭:১৭

মাদারীপুরে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ 

মাদারীপুর, ২১ আগস্ট ২০২৬ (বাসস): জেলার শিবচরে শাম্পা খাতুন (২৮) নামে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ফারুক নামের ১ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফারুক পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ধর্ষণের পর ঐ নারীর মরদেহ ঝোঁপের পাশে ফেলে রাখে। একই ঘটনায় তার ১ বছর বয়সী শিশু পুত্র আবিরকে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ফেলে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে গ্রেপ্তার ফারুক। তবে শিশুটির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকায় খানবাড়ির দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদরাসার বিপরীতে একটি জমির ঝোঁপের পাশ থেকে অজ্ঞাত ১ নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।

নিহত শাম্পা খাতুন নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় ৩ বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ১ বছর বয়সী ছেলে আবির।

পুলিশ সূত্র জানায়, একটি মামলা সংক্রান্ত ঘটনায় শাম্পার স্বামী কারাগারে থাকাকালে মাদারীপুর আদালত প্রাঙ্গণে ফারুকের সঙ্গে শাম্পার পরিচয় হয়। ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে। 

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বাবা ছামরুল ইসলাম শিবচরে এসে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। এ সময় তিনি জানতে পারেন, তার নাতি আবিরও নিখোঁজ। ২০ আগস্ট তিনি বাদী হয়ে শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার পর মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও র‌্যাব-৮ তদন্ত শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় শিবচর ও রাজৈর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ফারুকের বাসা থেকে নিহত শাম্পার স্বর্ণের নাকফুল, রুপার গলার চেইন, একজোড়া জুতা এবং পোড়ানো অবস্থায় একটি ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে। ফারুকের বাড়ি খুলনার তেরখাদা উপজেলার জয়সোমা এলাকায়। কয়েক মাস আগে গাড়ি চুরির অভিযোগেও তাকে শিবচর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বাসসকে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। শিশুটিকে আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেয়ার কথাও জানিয়েছে সে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চলছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শাম্পাকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝোঁপের পাশে ফেলে রাখা হয় এবং তার স্বর্ণালংকার রেখে দেয়া হয়। 

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি-না এবং ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।