বাসস
  ১৬ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫২

৩১ দফা বাস্তবায়নেই জুলাই, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সার্থকতা: অর্থমন্ত্রী

আজ বুয়েট-এ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি : বাসস

ঢাকা, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা যেই ইশতেহার দিয়েছি সেটি যেন পরিপূর্ণভাবে পালন করতে পারি। ৩১ দফা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলেই জুলাই, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সার্থকতা পাওয়া যাবে।

আজ (রোববার) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জুলাই আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় হাজার হাজার নেতাকর্মী কঠিন সময় পার করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে কারাগারে আটক ব্যক্তিদের কাছে তেমন কোনো তথ্য ছিল না। কিন্তু শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার খবর দ্রুত সময়ের মধ্যে কারাগারে পৌঁছে যায়। তখন ভেতরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেল সুপার আমাকে অনুরোধ জানান। তখন বন্দিদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলাম। 

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। 

কারণ দীর্ঘ সময়ে জনগণ ভোটাধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক সমতার অভাব অনুভব করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতার মধ্যে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যথাযথ অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনগণের সেসব প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। সেখানে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা গেলে জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচিতে দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং অন্যটি ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন’। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের মূল লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পান এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই এর মূল উদ্দেশ্য। শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র যথেষ্ট নয়, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা সৃজনশীল অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। এর মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ শিল্পী, কারুশিল্পী, খেলোয়াড়, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব খাতের মানুষের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ সুবিধা, ডিজাইনিং সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

আমির খসরু বলেন, স্পোর্টস ইকোনমি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসতে পারলে দেশের মানুষের আয় ও জীবনমান বাড়বে। শীতলপাটি, মৃৎশিল্পসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি কঠিন অবস্থার মধ্যে ছিল। ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট ছিল।

‘আমরা শূন্য থেকে শুরু করিনি, বরং মাইনাস থেকে শুরু করেছি’- বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান, আর্থিক সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

আমির খসরু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য নাগরিকদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নারী, শিশু, শ্রমিক, প্রতিবন্ধীসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জিত হবে।

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।