বাসস
  ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৩৩

গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি: রিজভী

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সোমবার রাজধানীর সিরডাপ অডিটোরিয়ামে মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস

ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

আজ সোমবার রাজধানীর সিরডাপ অডিটোরিয়ামে মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ আয়োজিত ‘নির্বাচনী সহিংসতা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের মানুষ আশা করেছে, অতীতে যা হয়েছে তা পেছনে ফেলে নতুন করে গণতন্ত্রের পথচলা শুরু হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নত হবে, বিচার বিভাগ সত্যিকার অর্থে স্বাধীনভাবে কাজ করবে, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করবে এবং নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র শুধু রাজনীতি বিজ্ঞান বা ইতিহাসের বিষয় নয়। এটা কোনো যুক্তির বিষয়ও নয়। এটা হচ্ছে মনস্তত্ত্বের বিষয়। আপনার মনস্তত্ত্ব যদি ঠিক না হয়, আপনি কিছুই করতে পারবেন না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র, তীক্ষè ও কঠোর সমালোচনা করবে- এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা। তবে সেই সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক, পারস্পরিকভাবে উপকারী ও ভবিষ্যৎমুখী। তাহলেই গণতন্ত্রের পথচলা মসৃণ হবে এবং রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটবে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য প্রত্যেককে নিজের দিকেও তাকাতে হবে। এক হাতে কখনো তালি বাজে না। সরকার ও বিরোধী দল- উভয় পক্ষের ভূমিকা রয়েছে। একতরফাভাবে শুধু একটি পক্ষের কথা বললে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হবে না।

রিজভী বলেন, ভাষা, শব্দ প্রয়োগ ও বাক্য বিন্যাসের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সতর্ক থাকলে নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিংস মনোভাব গড়ে উঠবে না।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যত আইন-কানুনই করা হোক না কেন, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে তা কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। প্রত্যেকের মধ্যে আইন মেনে চলার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, বিচারকরা তাদের মত প্রকাশ ও রায় প্রদানের ক্ষেত্রে সুবিবেচনা প্রসূত ভূমিকা পালন করবেন, এটাই প্রত্যাশা। অতীতে বিচার বিভাগে যে ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে, তার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের দিকে নজর দিতে হবে।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদসহ অনান্যরা।