শিরোনাম

বাগেরহাট, ৩০ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জেলার ফকিরহাট থেকে চুরি হওয়া ১১টি গরু খুলনার তেরখাদা উপজেলা থেকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
একইসঙ্গে গরু পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ এবং আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তেরখাদা উপজেলার বারাসাত ইউনিয়নের কাটেঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে গরুগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গরুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, ফকিরহাট থানায় দায়ের হওয়া একটি গরু চুরির মামলার তদন্তে প্রকাশিত আসামি ইমরান শেখ (৪০) ও নাহিদ শেখ (২৭)-কে গ্রেফতারের পর আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ফকিরহাট উপজেলার শিউলি ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে চোরাই গরু বহনে ব্যবহৃত খুলনা মেট্রো-ন-১১-২০২২ নম্বরের একটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্য অনুসরণ করে খুলনার তেরখাদা উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের আরিফ মোল্লার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে গোয়ালঘরে রাখা চুরি হওয়া ১১টি গরু উদ্ধার করা হয় এবং চোরাই মাল সংরক্ষণের অভিযোগে আরিফ মোল্লাকে (৩৮) আটক করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেনÑফকিরহাট উপজেলার শ্যামবাঘাত গ্রামের ইমরান শেখ (৪০), রামপাল উপজেলার সোলাকড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের নাহিদ শেখ (২৭) এবং তেরখাদা উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের আরিফ মোল্লা (৩৮)।
পুলিশ জানায়, ইমরান শেখের বিরুদ্ধে হত্যা, সংগোপনে গৃহে প্রবেশ, চোরাই মাল গ্রহণ, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং মারামারিসহ ছয়টি মামলা ও একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে।
নাহিদ শেখের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, চোরাই মাল গ্রহণ এবং চুরির অভিযোগে তিনটি মামলা রয়েছে। আরিফ মোল্লার বিরুদ্ধে রয়েছে চোরাই মাল গ্রহণ ও মারামারির দুটি মামলা।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ফকিরহাটের গরু চুরির মামলার তদন্তে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। উদ্ধার হওয়া গরুগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত গরু চুরির ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।