বাসস
  ১৬ জুলাই ২০২৬, ১৭:৫৫

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদানে ‘প্যারাডাইম শিফট’ আসছে: উপাচার্য

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১৬ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করে গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে ডেইলি স্টার ও গ্রামীণফোন আয়োজিত ‘ফিউচার-রেডি বাংলাদেশ: এআই, স্কিলস অ্যান্ড ইয়ুথ এমপ্লয়্যাবিলিটি ইন দ্য ডিজিটাল ইকোনমি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে গতকাল সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘দেশের উচ্চশিক্ষার ৭০ শতাংশ পরিচালনা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী ও আড়াই হাজার কলেজ নিয়ে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কেবল সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। বর্তমান ও ভবিষ্যতের বাজার এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ডিজিটাল দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। তাই আমরা আমাদের পাঠ্যক্রমে একটি ‘প্যারাডাইম শিফট’ পরিবর্তন আনছি, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করার আগেই কোনো একটি প্রায়োগিক বা প্রযুক্তিগত দক্ষতায় পারদর্শী হয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট ও অন্যান্য সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার রাজনৈতিকীকরণের কারণে বছরের পর বছর চেষ্টা করেও এর বৃত্ত থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকট উত্তরণে রাষ্ট্রীয় পলিসি সাপোর্ট বা নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।

আইসিটির শিক্ষক সংকটের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে দেশব্যাপী বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকদের আইসিটি প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘মাস্টার ট্রেইনার’ তৈরি করা হচ্ছে।

সিলেবাসের আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের বর্তমান সিলেবাস এতটাই পিছিয়ে আছে যে, তা দিয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই কঠিন। অথচ আমরা এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বাস করছি এবং এআই নিয়ে কথা বলছি। নানা বাধা উপেক্ষা করেই আমরা আধুনিক ও সময়োপযোগী বিষয় চালুর জন্য ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী করতে ইংরেজি ও আইসিটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং তৃতীয় একটি ভাষা শেখার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইটি, কোডিং, এআই লিটারেসি এবং সফট স্কিলসকে মূল ধারার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

ড. আমানুল্লাহ আরও জানান, রেমিট্যান্স বাড়াতে এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে মাইক্রো-লার্নিং ও মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল কোর্স চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনসহ বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সাথে শিক্ষার্থীদের ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ’ তৈরিসহ বিভিন্ন ‘অ্যাপ্রেন্টিসশিপ’ প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে।

হেড অব স্ট্রাটেজিক পার্টনারশিপস তানজিম ফেরদৌসের পরিচালনায় গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ। অনুষ্ঠানে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম স্বাগত বক্তব্যে রাখেন।

বৈঠকে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) অটো মাগনে রিসব্যাক, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি মুনির হাসান, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, ইউএনডিপির প্রজেক্ট ম্যানেজার মারুফ আজম, শিখোর সিইও শাহির চৌধুরীসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থার প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদগণ উপস্থিত ছিলেন।