শিরোনাম

ঢাকা, ১ জুলাই, ২০২৬ ( বাসস) : দেশের শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের সপ্তম ব্যাচের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বুধবার (১ জুলাই) দেশের সব জেলায় একযোগে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের যুব উন্নয়ন কর্মকর্তারা, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধিরা এবং অনলাইনে যুক্ত প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে ফ্রিল্যান্সিং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।
দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজ শুধু নিজেদের কর্মসংস্থানই নিশ্চিত করবে না, একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে সপ্তম ব্যাচের এ প্রশিক্ষণ।
দেশের প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থী এতে অংশ নিচ্ছেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ থেকে ৩৫ বছর এবং আবেদনকারীদের ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমান পাস হতে হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ছয়টি ব্যাচে মোট ১৯ হাজার ২০০ জন তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ১১ হাজার ৩৫৩ জন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি শুধু দক্ষতা উন্নয়ন নয়, বরং তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান ও বৈদেশিক আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্যের প্রমাণ।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, সপ্তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীরাও সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন।
এর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং শিক্ষিত বেকারত্ব কমাতে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।