বাসস
  ২৮ জুন ২০২৬, ২১:০৮

নীলফামারীতে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে 

ছবি : বাসস

নীলফামারী, ২৮ জুন ২০২৬ (বাসস): উজানের ঢলে জেলায় আজ তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আজ রোববার সন্ধ্যা ৬ টায় ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

জেলার ডালিয়ায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, উজানে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যরাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ৭ সেণ্টিামিটার ওপর দিয়ে প্রাহিত হচ্ছিল। সেখানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

এর আগে, রোববার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর থেকে পানি বাড়তে শুরু করলে সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার, বেলা ১২টায় ১৭ সেন্টিমিটার এবং বিকেল তিনটায় ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।

এর আগে গত ২০ জুন তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই করে ৫ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহি হয়েছিল। এর দুই দিন পর ২৩ জুন বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পাশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ১৫টি গ্রামের পানি প্রবেশ করেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহ থাকায় এসব গ্রামের ৫ সহ্রাধিক মানুষ বন্যার শঙ্কার রয়েছে।

জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। এসব গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

একই উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম জানান, আজ রোববার সন্ধ্যায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নিম্নাঞ্চলের গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

ডালিয়ায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের সবগুলো (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।