শিরোনাম

আল-আমিন শাহরিয়ার
ভোলা, ২৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : উপকূলীয় জেলা ভোলার নদ-নদীর বুকে জেগে ওঠা মূল ভূ-খন্ড হতে বিচ্ছিন্ন দূর্গম চরাঞ্চলে বসবাসরত পরিবারের শিশুদের আজ ভিটামিন 'এ প্লাস' ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। এ ক্যাম্পেইনে চরাঞ্চলের ৩৩৩ প্রতিবন্ধী শিশুকেও খাওয়ানো হলো ভিটামিন এ’ প্লাস ক্যাপসুল।
স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে স্পেশাল মোবাইল টিমের সদস্যরা ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর কাজটি করছেন। যেসমস্ত দূর্গম চরাঞ্চলের শিশুরা বাদ পড়েছে তাদেরকে খুঁজে ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়াতে আগামীকাল সোমবারও ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের এ কার্যক্রম চালাবেন।
এদিকে আজ রোববার সকাল থেকেই জেলার সাত উপজেলায় শিশুদের ভিটামিন 'এ প্লাস' ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বাসস'কে বলেন, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার ৭ উপজেলা ও তিনটি প্রশাসনিক থানা এলাকায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ভোলার সাত উপজেলার ৩০ টি ছোট-বড় চরে ভ্রাম্যমাণ মোবাইল টিম কাজ করছে। সিভিল সার্জন বলেন- চরাঞ্চলগুলোতে আগামীকালও মোবাইল টিম কাজ করবে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে আরও জানানো হয়, কোনো শিশু যেন এ কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সেজন্য জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ৬১৯ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ১০৮ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে আজ উপকূলীয় জেলা ভোলার ১ হাজার ৬৮৯টি কেন্দ্রে একযোগে ২ লাখ ৯৩ হাজার ১৩৬ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস-ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার ভোলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে গণমাধ্যমের সাথে প্রেস ব্রিফিং করা হয়।
ওই প্রেস কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামান।
সভায় বক্তারা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, রাতকানা রোগ প্রতিরোধ এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নির্ধারিত বয়সের সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
তারা আরও বলেন, কোনো শিশুকে খালি পেটে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। শিশুকে মায়ের দুধ বা অন্য কোনো খাবার খাওয়ানোর পর ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।
এবিষয়ে ভোলার সিভিল সার্জন বাসস'কে বলেন, ,শতভাগ শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়াতে নির্ধারিত কেন্দ্রগুলো ছাড়াও নদীমাতৃক দূর্গম চরাঞ্চলগুলোতেও বিশেষ মোবাইল টিম কাজ করছে। কোনো পরিবারের সদস্যরা শিশুকে কেন্দ্রে না এনে কোনো ক্যাপসুল বাড়িতে নিয়ে খাওয়াতে পারবেননা; সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন ভিডিও বার্তা দিয়েছেন বলেও জানান, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এ শীর্ষ কর্তা।