শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ২৬ জুন ২০২৫ (বাসস): চট্টগ্রামের রাউজান ও নগরীতে পৃথক দুটি স্থানে সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে নগরীর ডবলমুরিং থানার ধনিয়ালাপাড়া এবং দুপুরে রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ঝিকুটিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নগরীর ধনিয়ালাপাড়ায় নিহত দুজন হলেন, নোয়াখালী সদর উপজেলার উত্তর শূন্যকিয়া এলাকার সাকিব এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী এলাকার হৃদয় মিয়া। অপরদিকে, রাউজানে নিহতরা হলেন প্রদীপ দাশ এবং সমীরণ দাশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, শুক্রবার সকালে ধনিয়ালাপাড়া এলাকার জাকির ম্যানশনের পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে নামেন সাকিব ও হৃদয় নামের দুই শ্রমিক। ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সময় তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
অন্যদিকে, রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, দুপুরে রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ঝিকুটি পাড়ায় রতন ডাক্তারের নির্মাণাধীন বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন রাউজানের কচুখাইন এলাকার প্রদীপ দাশ এবং বোয়ালখালীর কদুরখিল এলাকার সমীরণ দাশ। প্রদীপ বাড়ির মালিক রতন ডাক্তারের জামাতা।
তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রদীপ দাশ সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। পরে তাকে উদ্ধার করতে সমীরণ দাশ নামলে তিনিও একইভাবে গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের রাউজান স্টেশনের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুই ঘটনারই আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে।