বাসস
  ২৬ জুন ২০২৬, ১৯:৪৬

কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে স্থানীয় কৃষকদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর

আজ জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি : পিআইডি

সিলেট, ২৬ জুন, ২০২৬ (বাসস) : কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরো ফলপ্রসূ করতে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কৃষকদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

আজ জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় মন্ত্রী কৃষকদের সম্পৃক্ত করে তাদের চাহিদার ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে ফসলভিত্তিক সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে হবে। 

মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নের ব্লক সুপারভাইজারকে এলাকার মাটি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, উপযোগী ফসল, কৃষকদের চাহিদা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য সহায়তার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে পৃথক প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে। স্থানীয়ভাবে সমাধানযোগ্য সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে এবং অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তা উপস্থাপন করতে হবে। 

তিনি আরো বলেন, কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, সবজি ও ফল চাষ এবং নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায়ে উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সভায় উপজেলার পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের সার্বিক অবস্থা, ভ্যাকসিন সরবরাহ, প্রাণিসম্পদ সেবা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুতের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের পাশাপাশি কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে আরো সক্রিয়, সমন্বিত ও জনমুখী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় জৈন্তাপুর উপজেলার কৃষকদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন কৃষককে আমন ধানের বীজ ও সার, ৫০০ জন কৃষককে গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ ও সার, ৩০ জন কৃষককে লেবুর চারা, ৩০ জন কৃষককে গ্রীষ্মকালীন বেগুনের বীজ এবং ৫০ জন কৃষককে মরিচের বীজ প্রদান করা হয়। এছাড়া ৭৪ জন কৃষক ও ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গাছের চারা দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা, জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাফিজসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ইসিজি মেশিন হস্তান্তর করেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।