শিরোনাম

ঝিনাইদহ, ২২ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ঝিনাইদহের চাঞ্চল্যকর শিশু তাবাসসুম ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার আসামি আবু তাহেরকে আজ মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন জেলার একটি আদালত। গত ১৬ জুন এই মামলার শুনানি শুরু হয়। ১৭ জুন অভিযোগ গঠন শেষে আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষ্য প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো. সালেহুজ্জামান।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের (৩৩) কালীগঞ্জ উপজেলার ফরাসগঞ্জ গ্রামের শফিউদ্দিনের ছেলে।
জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশু তাবাসসুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। ধর্ষণের ফলে শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করলে খুনি আবু তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে শিশু তাবাসসুমের মুখ ও নাক চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বাসরোধে মারা যায় তাবাসসুম। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখে অভিযুক্ত আবু তাহের।
ওই ঘটনায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শিশু তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে আবু তাহেরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামরার পরপরই পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই দিন রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামি আবু তাহের পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
ঘটনার ৪ মাসের মধ্যে সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় মাত্র ৫ কর্মদিবসে চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচার কার্য সম্পন্ন হয়েছে। রায়ের পর আদালত ও সরকারের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভিকটিম শিশুর পরিবার।
এরআগে গতকাল রোববার ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ওইদিনই রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত। চাঞ্চল্যকর এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে খুশি আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকরাও।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে রোববার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহের একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বাদেডিহি গ্রামে নিহত শিশু তাবাসসুমদের বাড়ির পাশেই একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।
নিহত তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম পেশায় টেইলার্স কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ চাকরি করেন।
একমাত্র কন্যা সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর এই বাবা-মা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আবু তাহেরের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসি কার্যকর চান তারা। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।
তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে আইনমন্ত্রীকে। কারণ তিনি এই মামলা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। আমরা চাই, উচ্চ আদালতেও যেন এ রায় বহাল থাকে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাড. আকিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সব তথ্য-প্রমাণ ও ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি। আদালত আমাদের প্রত্যাশিত রায় দিয়েছেন। উচ্চ আদালতে যেন আসামির দণ্ড বহাল থাকে, সেটাই প্রত্যাশা করছি।