শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো বাস্তব ও কর্মমুখী করতে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
তিনি জানান, বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের সূচনা করা হবে।
আজ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) আয়োজিত ‘শিক্ষা-শিল্পের ঐকতান, কর্মসংস্থানের সমাধান’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি হাতে-কলমে শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে, যা তাদের কর্মজীবনে প্রবেশকে অনেক সহজ করে তুলবে।
বর্তমান সরকার উদ্ভাবন, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন ও নতুন জ্ঞান অনুসন্ধানে আগ্রহী হতে হবে।
শিক্ষাখাতে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য দূর করার বিষয়ে জোর দিয়ে ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট ধনিক শ্রেণির একচেটিয়া অধিকার নয়। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’
অনগ্রসর অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় শিক্ষার সুফল পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে ইউজিসি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম শিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যকার বিদ্যমান ব্যবধান কমিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, যুগের চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে বাস্তবমুখী শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমেই দেশের বেকারত্ব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
ইউজিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাবিপ্রবি উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মুক্ত আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এ কে এম মতিনুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশ নেন।