বাসস
  ১৩ জুন ২০২৬, ২২:৫৬
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ২৩:১১

প্রবাসীদের মেধা কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ করতে চায় সরকার : মাহদী আমিন

শনিবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক সম্মেলনে বক্তব্যে দেন । ছবি : বাসস

ঢাকা, ১৩ জুন, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন, প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সরকার ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা ‘ব্রেন ড্রেন’ (মেধা পাচার)-কে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ বা মেধার সদ্ব্যবহারে রূপান্তর করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই যাতে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা বাংলাদেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন, দেশে বিনিয়োগ করতে পারেন এবং তাদের জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা দেশের ইকোসিস্টেমে স্থানান্তর করতে পারেন।’

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যৌথ আয়োজনে ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনের পূর্ববর্তী প্রচারণা থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ভিশন বা দূরদর্শিতার কথা বারবার তুলে ধরেছেন। তিনি একটি সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও কার্যকর অভিবাসন নীতির ওপর জোর দিয়েছেন, যেখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বা সংখ্যা সময়ের সাথে সাথে কমিয়ে আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, ‘বিদেশে কর্মসংস্থান ও অভিবাসনের সূচনা হয়েছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। আর প্রবাসীদের কল্যাণে যে ডেডিকেটেড মন্ত্রণালয় কাজ করছে, সেই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সুতরাং, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসনের উন্নয়ন বিএনপির রাজনৈতিক ডিএনএতেই রয়েছে।’

সরকার শুধু অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর সনাতন ধারা থেকে বেরিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আমরা শুধু শ্রমবাজারের বহুমুখীকরণই চাই না, বরং কর্মসংস্থানের ধরন এবং জনসংখ্যার বৈচিত্র্যও নিশ্চিত করতে চাই। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী হওয়ায় বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ (যা বর্তমানে ৫ থেকে ৭ শতাংশ) আরও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে চায় সরকার।

অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করতে সরকার ‘প্রবাসী কার্ড’ বা ‘এক্সপ্যাট্রিয়েট কার্ড’ চালুর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই কার্ড চালু হলে বিদেশে অবস্থানরত প্রত্যেক বাংলাদেশির অবস্থান সরকারি অবকাঠামোর আওতায় ট্র্যাক বা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

এছাড়া, এখন থেকে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে আবেদনকারীর আর্থিক নথিপত্র এবং শিক্ষাগত সনদ কিউআর কোডের মাধ্যমে অনুসরণযোগ্য করা হচ্ছে।

ড. মাহদী আমিন জানান, তরুণ প্রজন্মের বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার দুই মাস আগে একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে, যার অধীনে কোনো শিক্ষার্থী যদি তৃতীয় কোনো ভাষা শিক্ষা বা স্বল্পমেয়াদি কোর্সের জন্য বিদেশে যেতে চায়, তবে সে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের কোন দেশে কী ধরনের কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতার চাহিদা রয়েছে, তা নিরূপণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। সেই বৈশ্বিক চাহিদার সাথে মিল রেখে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিভিইটি) মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে তোলা হবে। একই সাথে, বাংলাদেশি কর্মীদের অর্জিত সনদগুলো যাতে গ্রহণকারী দেশগুলোতে সরাসরি স্বীকৃত হয়, সেজন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।