বাসস
  ১৩ জুন ২০২৬, ১৭:৪৯

খুলনায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে ফটো প্রদর্শনী 

ছবি : বাসস

খুলনা, ১৩ জুন, ২০২৬, (বাসস) : খুলনায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, ভোগান্তি ও দুর্ভোগ তুলে ধরে ফটো প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।

আজ শনিবার সকালে ‘উপকূলের কণ্ঠ : জলবায়ু সহনশীলতার অভিযাত্রা’ শীর্ষক এ ফটো প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে খুলনা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। 

গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে এ প্রদর্শনীতে। 

নগরীর শহিদ হাসিদ পার্কে আয়োজিত এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনে প্রতিনিয়ত নানা সংকট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে আইলা, সিডর, আম্ফানসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ এক প্রকার প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছেন। মানুষের বাসস্থান ও জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতি হয়েছে তা এখনও কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়নি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরবর্তী চিত্র আমরা যারা কাছ থেকে দেখেছি তাদের কাছে প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ছবিগুলো পরিচিত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিত্রগুলোতে মানুষের যে দুর্ভোগ তুলে ধরা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় হিসেবে সর্বত্র পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রশাসক জলবায়ু প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সবুজায়নের জন্য সকলকে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর-খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহীম মো. তৈমুর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুরাইয়া সিদ্দিকা, ইউএনডিপি’র ঢাকাস্থ হেড অব কমিউনিকেশন মো. আব্দুল কাইয়ুম, প্রকল্পের ন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল হান্নান প্রমুখ। 

পরে কেসিসি প্রশাসক প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া আলোকচিত্রি এবি রশীদের ফটোগুলো ঘুরে দেখেন।

উল্লেখ্য, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইউএনডিপি বাংলাদেশ যৌথভাবে জিসিএফ এর অর্থায়নে খুলনা ও সাতক্ষীরার ৫টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুপেয় পানি প্রাপ্তি সহজীকরণ, জীবিকায়নের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততার প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারাই এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শেষ হলে ৫টি উপজেলার ৭ লাখ ১৯ হাজার ২২৯ জন মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে।