বাসস
  ১০ জুন ২০২৬, ১৬:৩১
আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১৭:১৯

ঢাকার খাল পুনরুদ্ধারে সীমানা চিহ্নিত করতে ২ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১০ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকার খাল পুনরুদ্ধারে সীমানা চিহ্নিত করতে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সকল খালের সীমানা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে একটি জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত ৮ জুন অনুষ্ঠিত সভার অনুশাসন মোতাবেক আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সভায় রাজধানীর খাল খনন, পুনরুদ্ধার ও পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে পৃথক দু’টি কমিটি গঠন করে খালগুলোর সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এসব কমিটিতে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, রাজউক, ঢাকা জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব, ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর খাল, লেক ও জলাধারগুলো শুধু পরিবেশের জন্য নয়, বরং নগরের টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

তিনি বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে খালগুলো দ্রুত পরিষ্কার করে বৃষ্টির পানি প্রবাহের উপযোগী করে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, জনবল নিয়োগ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, ঢাকার খালগুলোকে পুনরুদ্ধার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রথমেই সঠিক সীমানা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। 

তিনি বলেন, ম্যাপভেদে খালের সীমানায় ভিন্নতা এবং একাধিক সংস্থার সংশ্লিষ্টতার কারণে একযোগে সকল খালে কাজ শুরু করা চ্যালেঞ্জিং হলেও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ প্রেক্ষিতে পাইলট আকারে বাইশটেকি খাল এবং কল্যাণপুর রিটেনশন পন্ডকে বর্ধিতকরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জটিলতা নিরসন করে উন্নয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব পাইলট প্রকল্প থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা, সমন্বয় কাঠামো এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি পরবর্তীতে রাজধানীর অন্যান্য খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে প্রয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ঢাকা জেলা প্রশাসক, এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি)-সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।