বাসস
  ২৯ জুলাই ২০২৬, ২১:৫৯

আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়তে অভ্যন্তরীণ মূল্য সংযোজন বাড়ানোর আহ্বান জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর

ছবি : বাসস

ঢাকা, ২৯ জুলাই, ২০২৬(বাসস): জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাহ্যিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি এবং প্রকৃত আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বুধবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) ইকোনমিক্স ক্লাব আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের পরবর্তী বিশ্লেষণ ও বাংলাদেশ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিইউবিটির আন্তর্জাতিক সম্মেলন হলে আয়োজিত এ সেমিনারে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারণী বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, দেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে বিনিয়োগযোগ্য মূলধনের প্রধান উৎস চিহ্নিত করতে হবে। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পর বাংলাদেশকে এখন বিদেশি অর্থায়নের ওপর অতিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব সক্ষমতা ও মূল্য সংযোজনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হতে হবে।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে টেকসই উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয়ের অর্থ যথাসময়ে দেশে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রকৃত আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিইউবিটির ব্যবসায় ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, বাজেট-পরবর্তী বিশ্লেষণ দেশের উন্নয়নের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং নীতিনির্ধারণে কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিইউবিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী। তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) যথাসময়ে বাস্তবায়ন এবং প্রকল্পের মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে ছেড়ে না দিয়ে বর্তমান কাঠামোর মধ্যেই অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালনা করা উচিত।

অধ্যাপক মাহবুব আলী বলেন, তিনি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান বাজারের চাহিদা বিবেচনায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ব্লকচেইন এবং ডিপ লার্নিং বিষয়গুলো বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এসব প্রযুক্তিগত জ্ঞান অপরিহার্য।

সভাপতির বক্তব্যে বিইউবিটির অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ধরনের একাডেমিক আলোচনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে গঠনমূলক চিন্তা ও নীতিগত বিতর্ককে সমৃদ্ধ করে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তরিক ইমাম জাহিদ, সহকারী অধ্যাপক মো. রাকিবুল ইসলাম এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুন্সী মাহবুবুর রহমান।