শিরোনাম

ঢাকা, ২২ মে, ২০২৬ (বাসস) : অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (এডাস্ট) জিওস্পেশাল (ভূ-অবস্থানভিত্তিক) তথ্য বিশ্লেষণ, গ্রহবিজ্ঞান এবং মহাকাশ প্রযুক্তি বিষয়ক এক অত্যাধুনিক গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘এডাস্ট সেন্টার ফর জিওস্পেশাল ইন্টেলিজেন্স, প্ল্যানেটারি সায়েন্স অ্যান্ড স্পেস সিস্টেমস’ নামে এই গবেষণা কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মঈন খান বলেন, দেশের প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্ভাবনী উদ্যোগে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি বলেন, এই অত্যাধুনিক গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশের নানা সংকট ও সম্ভাবনা দ্রুত গবেষণার মাধ্যমে সমাধান করার পথ উন্মুক্ত হবে। বিশেষ করে বন্যা বা দুর্যোগ প্রবণ বাংলাদেশে অঞ্চলভিত্তিক প্রভাব যাচাই এবং অপরাধপ্রবণ এলাকার ডেটা ম্যাপিং করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই গবেষণা কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জিওস্পেশাল প্রযুক্তি ও মহাকাশভিত্তিক গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইমাদুর রহমান।
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা ও উচ্চশিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে বক্তব্য দেন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস-এর পরিচালক ড. মার্টিন ভ্যান ক্রানেনডক, উপ-পরিচালক ড. ক্যাটারিনা মিলকোভিক এবং পরিচালক (গবেষণা) ড. আশরাফ দেওয়ান।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এম শামসুল আলম লিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামুখী কার্যক্রম সম্প্রসারণে এই কেন্দ্রের তাৎপর্য তুলে ধরেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সচিব মো. কামরুজ্জামান লিটু এবং সদস্য কামরুন নেহার।
উপাচার্য বলেন, অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় এবং অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার এই যৌথ সহযোগিতা উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও গবেষণায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন বিভাগের উপদেষ্টা, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, গবেষক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ নবপ্রতিষ্ঠিত গবেষণা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট গবেষকদের সাথে মতবিনিময় করেন।
নবনির্মিত এই গবেষণা কেন্দ্রটি মূলত স্যাটেলাইট ডেটা ও ভৌগোলিক ম্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের দুর্যোগের পূর্বাভাস, স্মার্ট নগর পরিকল্পনা, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করবে।