বাসস
  ১৭ মে ২০২৬, ১৯:৩৫

চালকের অদক্ষতা ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের কারণেই অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে : সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

রোববার রাজবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চেক বিতরণ ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি : বাসস 

ঢাকা, ১৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : চালকের অদক্ষতা, অসচেতনতা, স্বেচ্ছাচারিতা ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের কারণেই দেশে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। 

তিনি বলেন, জনগণের অসচেতনতা ও একই সড়কে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

আজ রোববার রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত ‘সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চেক বিতরণ ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেল।

গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সংঘটিত বাস দুর্ঘটনাসহ জেলায় বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত মোট ৬২ জনের মধ্যে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বক্তব্য রাখেন।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম মিয়া, বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবীবুর রহমান ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আজকের এই আয়োজন মূলত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সংহতি ও সহমর্মিতা প্রকাশের জন্য। এটি আমাদের সামগ্রিক ব্যর্থতা ও একটি জাতীয় অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা।

তিনি আরও বলেন, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সংঘটিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের হাতে এসেছে এবং প্রতিবেদনে চালকের ত্রুটি ও যানবাহনের সমস্যাকেই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। 

তিনি আরও বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় চালকদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চোখ ও রক্তচাপ পরীক্ষা ও মাদকাসক্তি শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। 

সড়ক নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান সড়ক ও সেতু মন্ত্রী। 

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য পরিবারের কান্না ও দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ। 

তিনি আরও বলেন, সরকার সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি চালক, মালিক ও যাত্রীসহ সকলকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। 

একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী দুর্ঘটনায় নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, এ সহায়তা কোনো ক্ষতিপূরণ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের বেদনার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের একটি প্রয়াস। 

তিনি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণের জন্য মন্ত্রী মহোদয়ের প্রতি আহ্বান জানান এবং নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন রেজাউল করিম। 

তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার কারণেই দুর্ঘটনার মাত্র ১ মাস ২৪ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো সহায়তা পেয়েছে। 

তিনি তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।