শিরোনাম

ঢাকা, ২২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক তথ্য অফিস এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিসসমূহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিস ও জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস জরুরি বন্যাবিষয়ক বার্তা প্রচার, পথসভা এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে বন্যা বা অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস না করা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সাপের কামড় প্রতিরোধে সতর্ক থাকা, শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ত্রাণ গ্রহণের সময় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার থেকে দূরে থাকা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুসারে খাগড়াছড়ি জেলায় ২১ জুলাই বিকেল থেকে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে এবং নতুন করে কোনো এলাকায় পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে স্বাভাবিক অবস্থা এখনো ফেরেনি। খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য অফিস ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী কক্সবাজার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে পেকুয়া উপজেলার কিছু কিছু জায়গায় এখনো কিছু পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং নতুন করে কোনো এলাকায় পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। জেলা তথ্য অফিস ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস, বন্যা ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার ও মাইকিং অব্যাহত রেখেছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাঙামাটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ভারী বর্ষণের প্রথম থেকেই পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাবার জন্য জনসচেতনতা তৈরি করতে রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিসের সড়ক প্রচার অব্যাহতভাবে চলছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে বন্যার পানি নেমে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে লোকজন তাদের আবাসস্থলে ফিরে যাচ্ছে। জেলা তথ্য অফিস ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে।
সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিস এবং সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত) বৃষ্টিপাত হয়নি। বৃষ্টিপাত কমে গেলেও ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে বৃষ্টির কারণে সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, পিয়াইনসহ প্রধান নদ-নদীর পানি কিছুটা বাড়ছে। কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে প্লাবিত হওয়ার বা বড় বা দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে নদীসংলগ্ন কিছু নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি বিরাজমান।
সুনামগঞ্জ জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। ছাতক পয়েন্টে সুরমা ও মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হবিগঞ্জ সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নীচে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে প্লাবিত হওয়ার বা বড় বা দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা নেই। জেলা তথ্য অফিস কর্তৃক সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। মনু নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলায় নদীরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা গিয়েছে। জেলা তথ্য অফিস বন্যাকালীন ও বন্যা পরবর্তী সময়ে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।