শিরোনাম

দিনাজপুর, ১৭ মে, ২০২৬, (বাসস) : দিনাজপুরে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।
আজ রোববার বিকেলে সাড়ে ৪টায় দিনাজপুরে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান নিয়ে সংগ্রহ অভিযানের উদ্ধোধন করেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, শান্তিপূণভাবে এবার ইরি-বোরো ধান ও চাল সারাদেশের ন্যায় এ জেলাতে সংগ্রহ অভিযান সফলভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকার এবার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করবেন। এজন্য বিক্রেতা কৃষকরা খাদ্য বিভাগের ঘোষিত নির্ধারিত তারিখের মধ্যে অ্যাপসের মাধ্যমে তাদের মোবাইল ফোন থেকে আবেদন করতে পারবেন।
অপরদিকে, খাদ্য বিভাগের তালিকাভুক্ত মিলারদের কাছ থেকে চাল সরকার ঘোষিত নির্ধারিত মূল্যে ক্রয় করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সংগ্রহ অভিযানে কোনো সিন্ডিকেট যেন কর্তৃত্ব না করে। কৃষক এবং শ্রমিকরা যেন জিম্মি না থাকে। এজন্য খাদ্য বিভাগকে সর্তক থাকার নির্দেশ দেন। অভিযোগ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব¡ করেন জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম। এসময় উপস্তিত ছিলেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা তমালিকা পাল, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আলহাজ মো. আবু বকর সিদ্দিক, চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান সরকার, সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানান, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ নিশ্চিত করতে ‘কৃষক অ্যাপ’ ব্যবহারের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। দিনাজপুরে ২০ মে থেকে কৃষকরা সরাসরি খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ দিতে পারবেন।
তিনি বলেন, কৃষকদের সচেতন ও উৎসাহিত করতে খাদ্য কর্মকর্তাদের মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং কেবল টিভিতে প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
খাদ্য বিভাগের সূত্রটি জানায়, চলতি মৌসুমে বোরো ধান, গম, আতপ চাল ও সিদ্ধ চাল সংগ্রহের কর্ম পরিকল্পনা এবং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি ধান ও গম ৩৬ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ করা হবে। আতপ চাল ৪৮ টাকা এবং সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা কেজি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
দিনাজপুর জেলার এবারের লক্ষ্যমাত্রা, সিদ্ধ চাল ৯৩ হাজার ৭১৯ মেট্রিক টন, আতপ চাল ১১ হাজার ৩৫২ মেট্রিক টন এবং বোরো ধান ১২ হাজার ২৬৭ মেট্রিক টন ক্রয় করা হবে।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, দিনাজপুরে ধান-চাল ও গম সংগ্রহ কার্যক্রম ২০ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।