শিরোনাম

নওগাঁ, ১৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : জেলার পত্নীতলা উপজেলায় ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দোকানপাট, ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড, যান চলাচল ব্যাহত এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মাঠে বোরো ধান মাটিতে নুয়ে পড়ে পানিতে ডুবছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গতকাল শনিবার গভীর রাতে দফায় দফায় ঝড়, বজ্রপাতে জনজীবনে আতঙ্ক নেমে আসে এবং একটানা ঝড়ের কারণে বাড়িঘর, দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপজেলার ছোট চাঁদপুর, বড় চাঁদপুর, হরিরামপুর, মাহমুদপুর, চকজয়রাম, ঠুকনিপাড়া, নতুনহাট, পুরাতন বাজার পালসাসহ বিভিন্ন গ্রামের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছের ডাল অপসারণ করতে গিয়ে হরিরামপুর মৌজার জুলফিকার আলী নামে এক ব্যক্তি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। উপজেলা সর্দারপাড়া মোড়ে কড়াইগাছ উপড়ে পড়ে প্রায় দুই ঘন্টা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং স্থানীয় জনসাধারণ দ্রুত গাছের ডাল অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
উপজেলার নজিপুর মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিশাল বটগাছ রাস্তার উপর পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। নজিপুর সরকারি কলেজ চত্বরের বড় বড় গাছগুলো উপড়ে পড়ে গেছে।
উপজেলার ছোট চাঁদপুর গ্রামের শামসুল আলম জানান, গত সপ্তাহে টিনের ঘর বেঁধে ছিলেন। গত রাতের ঝড়ে তার পুরো ঘর ভেঙ্গে পড়েছে। এছাড়া নজিপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন মোড়ে প্রায় ৪শ’ চালা ঘর উড়ে গেছে।
উপজেলা সদরের বাসিন্দা কিসমত মন্ডল বলেন, উপজেলা সদরে বৃহৎ কড়াই গাছ উপড়ে পড়ে উপজেলার প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের তার বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। টেলিফোন এবং ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
নজিপুর বাসস্ট্যান্ড বণিক কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সহ-সভাপতি সাজেদুর রহমান দুলাল বলেন, ঝড়ের পরে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন দোকান পরিদর্শন করা হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা বলেন, সকলকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।