বাসস
  ১৭ মে ২০২৬, ১১:৫৯
আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ১৬:২৩

বিরামপুরের মহারাজার দাম ২০ লাখ টাকা

ছবি : বাসস

দিনাজপুর, ১৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : জেলার বিরামপুর উপজেলার এক খামারে ৩০ মণ ওজনের একটি ষাঁড় গরুর দাম ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। তার নাম মহারাজা।   

বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের শাহাবাজপুর গ্রামের খামারি লুৎফর রহমান, ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড় গরুটি লালন পালন করে কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন।  

লুৎফর রহমান বাসসকে জানান, প্রায় ৫ বছর ধরে তিনি গরুটি যত্ন সহকারে লালন পালন করেছেন। আদর করে গরুটির নাম দিয়েছেন মহারাজা। মহারাজার প্রতিদিনের খাবার খরচ দেড় হাজার টাকা। তার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রয়েছে কলা, আপেল, ভুট্টার আটা, চালের খুদ, চালের ব্রান, ধানের গুড়া, ছোলাবুট, ভাঙা আটা, সয়াবিন খইল, সরিষার খৈল এবং কাঁচা ঘাস। তার সেবা যত্ন করার জন্য আছে দুই জন কর্মচারী। ৩০ মণ ওজনের এই বিশাল ষাঁড় গরুর দাম ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। 

তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫ বছর ধরে তাকে সন্তানের মতো লালন পালন করে আসছি। গরুটিকে একটু বেশিই ভালোবাসি। তাই নাম রেখেছি মহারাজা। 

গত ফেব্রুয়ারি মাসে জেলার বিরামপুর উপজেলায় প্রাণী প্রদর্শনী মেলায় ‘মহারাজা’ প্রথম স্থান অধিকার করে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এই মহারাজাকে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। 

দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম বাসসকে বলেন, জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন কোরবানির ঈদে জেলার মধ্যে বিরামপুর উপজেলায় শাহাবাজপুর গ্রামে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড়ো গরু মহারাজা। ৩০ মণ ওজনের এই ষাঁড় গরুটি এই ঈদে জেলার সবচেয়ে বড় ষাঁড় গরু হিসাবে সবার দৃষ্টি কেড়েছে।  

বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল জলিল জানান, দূর থেকে দেখলে মনে হবে, রাজা বাদশাহের আমলের একটি শক্তিশালী হাতি বা বড় ধরনের ঘোড়া দাঁড়িয়ে আছে। দুই শিং, কপাল ও সামনের মুখ এবং দুই পায়ে সাদা অংশের দিকে তাকিয়ে থাকলে মনে হবে এটি একটি অবিকল হাতি বা বড় আকৃতির ঘোড়া। কিন্তু ঘোড়া বা হাতি নয়, এটি একটি ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় গরু। শাহাবাজপুর গ্রামের খামারি লুৎফর রহমান এটিকে প্রায় ৫ বছর ধরে লালন পালন করছেন। তার খামারে মোট পাঁচটি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু আছে। তাদের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে বেশি আদরে লালন পালন করেছেন। আকৃতিতেও অনেক বড়। তাই নাম দিয়েছেন মহারাজা।

সরেজমিনে লুৎফর রহমানের খামারে গিয়ে দেখা যায়, খামারি লুৎফর পরম মমতায় গরুটিকে লালন-পালন করছেন। বিশাল আকৃতির ষাঁড় গরুটিকে নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশাল আকৃতির মহারাজাকে দেখতে প্রতিনিয়ত দূর দূরান্ত থেকে দর্শনার্থী ভিড় করছেন। অনেকেই নিয়ে বিশাল ষাঁড় গরুটির সাথে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন।  

বিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপুল কুমার চক্রবর্তী বাসসকে বলেন, ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টি জেলার অন্যতম বড় গরু হিসাবে প্রাণী সম্পদ বিভাগ চিহ্নিত করেছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর মহারাজাকে লালন পালন করতে খামারিকে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে। অন্য কোনো খামারি এমন ষাঁড় গরু পালন করতে চাইলে তাকেও প্রাণিসম্পদ বিভাগ সব ধরনের সহযোগিতা করবে। 

তিনি জানান, বিরামপুর উপজেলায় ছোট বড় সর্বমোট খামারি আছেন ২ হাজার ৩ শত ১৫ জন। এবারে কোরবানির ঈদে এই উপজেলায় পশুর চাহিদা আছে ২১ হাজার ২ শত ৬০টি। কোরবানির ঈদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৯ শত ৩২ টি পশু। অতিরিক্ত পশু এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারেরা ক্রয় করে নিয়ে যাবে।