শিরোনাম

আব্বাছ হোসেন
লক্ষ্মীপুর, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ইলিশ সংরক্ষণ ও আহরণসহ সব ধরনের মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার ২ মাস পর লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল মধ্য রাত থেকে নদীতে মাছ ধরতে নামবে জেলেরা। তাই জাল ও নৌকা মেরামতসহ সব ধরনের কাজ সেরে নিতে মাছঘাটগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
তবে অভিযান সফল দাবি করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, গত বছরের চেয়ে এবার মাছের উৎপাদন বাড়বে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ হাজার ৫শ মে.টন। যা গত বছরের চেয়ে ৫ হাজার মে.টন বেশি।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর জেলায় ৫২ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এসব জেলে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস নদীতে সকল ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল।
এসময় ৪শতাধিক মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অর্ধশতাধিক জেলেকে জেল-জরিমানা করা হয়। ২০ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ৩০ এপ্রিল মধ্য রাতে। এরপর থেকে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। তাই মাছ শিকারের জন্য জেলেরা প্রস্তুুতি নিচ্ছে।
এবার লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। ছোট-বড় মিলে ৩০টি ঘাট রয়েছে। এসব ঘাটে সব রকমের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত করণ ও মজুদকরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিল।
নিষেধাজ্ঞার সময় প্রত্যেক জেলেকে ৪০ কেজি করে ৪ হাজার ৬শ ৯০ মে.টন ভিজিএফের চাল দেয়া হয়।
মতিরহাট ঘাটের জেলে ছলিম ও মজুচৌধুরীহাট ঘাটের জেলে আবুল কালামের সঙ্গে আলাপকালে বাসস’কে বলেন, প্রতিবছর নদীতে অভিযান চলে। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে এবারের অভিযান সফল হয়েছে। সরকারের আইন মেনে নদীতে যায়নি এখনকার জেলেরা।
তারা বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার ভিজিএফের চাল বরাদ্ধ দেয়। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে ৩০ এপ্রিল মধ্য রাতে। এরপর থেকে আবারও পুরোদমে নদীতে মাছ ধরা শুরু হবে। তাই নৌকা ও জালসহ অন্যান্য কাজ সেরে নিয়ে নদীতে মাছ ধরার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
এবারের অভিযান সফল দাবি করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসাইন বাসস’কে বলেন, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে ৩০ এপ্রিল মধ্য রাত থেকে। এরপর জেলেরা পুরোদমে মাছ শিকারে নদীতে নামতে পারবেন। গত বারের চেয়ে এবার মাছের উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে। দুই মাসের অভিযানে বেশ কয়েকজন জেলেকে জেল জরিমানা ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভবিষৎতে তা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করেন তিনি। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ হাজার ৫শ মে.টন। যা গত বছরের চেয়ে ৫ হাজার মে.টন বেশি।