শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)’র বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির মতো কাঠামোর মাধ্যমে এ সুবিধা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
প্রায় পাঁচ বছর পর আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক পরামর্শ বৈঠকে এ বিষয়টি উঠে আসে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং ইইউর ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এরিক কুর্জভাইল।
বৈঠকে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হয় এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষ সম্প্রতি বাংলাদেশ-ইইউ অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) প্রাথমিক অনুমোদনকে স্বাগত জানায় এবং আশা প্রকাশ করে, অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এটি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ ও বিস্তৃত ভিত্তি তৈরি করবে।
ইইউ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়াকে স্বীকৃতি দেয় এবং এ বিষয়ে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের উল্লেখ করে।
এ ছাড়া বৈঠকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে মতবিনিময় হয়।
বাংলাদেশ ‘হরাইজন ইউরোপ’-এ আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণের মাধ্যমে গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করে। পাশাপাশি জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক যৌথ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ শ্রম খাতে সংস্কারের অগ্রগতি তুলে ধরে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গে বাংলাদেশ তার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে এবং জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অভিযোজন ও সহনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগে বাড়তি সহায়তা কামনা করে। এ ক্ষেত্রে ইইউর ‘গ্লোবাল গেটওয়ে’ উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতার কথাও তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ও টেকসই মনোযোগ প্রয়োজন বলে বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করে।
উভয় পক্ষ বহুপক্ষীয়তা ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এবং বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নিয়মিত পরামর্শ বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে।