বাসস
  ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪১

বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর নিচু এলাকা নিমজ্জিত

মঙ্গলবার টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। ছবি : বাসস

চট্টগ্রাম, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): আজ মাত্র কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে চট্টগ্রামে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত আছে। দুপুরের পর থেকে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টিতে নগরীর প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কোমর সমান পানি জমে যায়। এতে ওই সড়ক ব্যবহারকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং পথচারীরা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রবর্তক এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলছে। যে কারণে পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় পানি জমে যায়। দ্রুত পানি নামার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

এদিকে চকবাজার, রহমতগঞ্জ, বহদ্দারহাট, শুলকবহর, মুরাদপুরসহ নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কোমর সমান পানিতে ডুবে গেছে সড়ক ও বাসাবাড়ির নিচতলা।

চট্টগ্রাম আমবাগান আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ বিজন রায় বলেন, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

স্থানীয়রা জানান, খাল-নালা ভরাট, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ময়লা-আবর্জনায় ড্রেন আটকে থাকায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যা থেকে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

নগরের কাতালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম জানান, বৃষ্টির কারণে রাস্তায় গণপরিবহন কিছুটা কম। ফলে স্বল্প দূরত্বে যেতেও রিকশায় বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। বৃষ্টি হওয়ায় পানিতে রাস্তা-ফুটপাত একাকার হয়ে গেছে।

এদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী চারদিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রবর্তকের পাশে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। যার কারণে সাময়িকভাবে পানি চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।’