বাসস
  ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১০

তেজগাঁওয়ে কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণে ৬৫ শতাংশ অগ্রগতি

ফাইল ছবি

ঢাকা, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ‘কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের কাজে ৬৫ শতাংশ দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। সেখানে এ পর্যন্ত মোট বাজেটের ৪৩.৭৬ শতাংশ ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সদর দপ্তরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) বৈঠকে এসব অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসি’র মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ।

প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬২ কোটি টাকার বেশি। যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৭০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৮ কোটি টাকা।

ডিএনসি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ গোলাম আজম বাসস’কে জানান, ১৩ তলাবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের নির্মাণকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

সংস্থার উপ-পরিচালক (অপারেশনস) মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বর্তমানের ১০০ শয্যার কেন্দ্রটি ২৫০ শয্যার আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হবে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রসারিত কেন্দ্রটিতে মাদকাসক্তদের উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া যাবে। পাশাপাশি বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় রোগী ব্যবস্থাপনাও আরও উন্নত হবে।

কর্মকর্তারা জানান, ভবনের ছাদ ঢালাই, ইটের গাঁথুনি ও পলেস্তারার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন বাইরের ফিনিশিং কাজ চলছে। প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণকাজও প্রায় শেষের পথে। বাথরুমে টাইলস বসানোর কাজ শেষ। এছাড়া মেঝের টাইলস বসানোর কাজ ৯০ শতাংশ এবং দরজায় ফ্রেম লাগানোর কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণ অগ্রগতি প্রায় ৮৫ শতাংশ।

তেজগাঁওয়ের এই মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রের সম্প্রসারণ কাজেও বেশ অগ্রগতি হয়েছে। ষষ্ঠ তলার ছাদ ঢালাই ও পলেস্তারার কাজ ইতোমধ্যে শেষ। তবে বিদ্যমান পাঁচতলা ভবনের সংস্কারকাজ এখনও শুরু হয়নি। চিকিৎসা কেন্দ্র ও মেট্রো অফিস স্থানান্তরের ওপর এটি নির্ভর করছে। বর্তমানে সেই স্থানান্তর কাজের অগ্রগতি ৩৭ শতাংশ হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় সব সিভিল ওয়ার্ক প্যাকেজ ইতোমধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এইচভিএসি ও ভেন্টিলেশন সিস্টেমের (শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও বায়ু চলাচল ব্যবস্থা) প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এরই মধ্যে প্রকল্পস্থলে পৌঁছেছে। লিফট কেনার প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। সরঞ্জামগুলো পৌঁছানোর পরই লিফট বসানোর কাজও শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানান, প্রশাসনিক ভবনের ফিনিশিং কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। এতে স্থানান্তর কাজ সহজ হবে এবং সংস্কারের পরবর্তী ধাপ শুরু করা যাবে।

গুণগত মান নিশ্চিতে স্থাপত্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন অর্থ ছাড় ও ঠিকাদারদের বকেয়া বিল পরিশোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পিআইসি’র সাম্প্রতিক সভায় প্রকল্পটি সময়মতো শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) অনুমোদন এবং অবশিষ্ট কাজ নির্বিঘ্নে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।