বাসস
  ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫৮
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৫২

২ মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞায় খাদ্যসামগ্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত ভোলার জেলেরা 

ছবি : বাসস

 আল-আমিন শাহরিয়ার

ভোলা, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জেলা সদরের মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জাটকা সংরক্ষণে চলমান দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়া জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। 

প্রথমবারের মতো চালের পাশাপাশি ৬ রকমের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পাচ্ছেন সুবিধাভোগী এসব জেলেরা। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো ভোলা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলেদের মাঝে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। 

গতকাল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. মো.শামীম রহমান জেলেদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় জেলার ১৩ হাজার ৬০০ জেলে পরিবারের জন্য এই সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাস জাটকা রক্ষায় মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়া প্রান্তিক জেলে ও মান্তা সম্প্রদায়ের পরিবারের তালিকা করে তাদের খাদ্য সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।

প্রতিটি পরিবারকে দুই মাসের জন্য মোট ১০ লিটার করে সয়াবিন তেল, ১২ কেজি আটা, ৮ কেজি ডাল, ১৬ কেজি আলু, ৪ কেজি চিনি ও ৪ কেজি লবণ দেওয়া হচ্ছে। উদ্বোধনের দিন সদর উপজেলার ১ হাজার ২০০ পরিবারের হাতে এসব খাদ্য সামগ্রী তুলে দেয়া হয়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বাসস'কে বলেন, আগে শুধু চাল দেয়া হলেও জেলেদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার পরীক্ষামূলকভাবে অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে জেলে পরিবারগুলোর পুষ্টি ও দৈনন্দিন প্রয়োজন অনেকটাই পূরণ হবে।

আজ সকালে ভোলার উপজেলা পরিষদে আসা সুবিধাভোগী জেলে হারুন মাঝি, সফিক, শানু মাঝি, মান্তা সম্প্রদায়ে নারী জেলে কহিনুর ও শাহিনুর বেগমের সাথে কথা হয়। চালের পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী পেয়ে তারা বেশ খুশি। 

চাল, ডাল, তেল, লবণ'সহ নিত্যখাদ্যপণ্য পেয়ে মান্তা নারী শাহিনুরের মুখে তৃপ্তির হাসি আর চোখে যেনো এক অব্যক্ত আনন্দ আর উচ্ছাসের আলোচ্ছটা। সরকারের দেয়া হরেকরকম খাদ্যপণ্য পেয়ে নিজের আবেগঘন অভিব্যক্তি প্রকাশ করে শাহিনুর বলেন, আল্লায় যেন্ গরীবের লইগ্যা তারেক রহমানকে বাঁচায়া রাখেন। অপর 
আরেক নারী কহিনুরের মুখেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া ও দীর্ঘায়ু কামনার হৃদয়কাড়া প্রার্থনা যেনো উপস্থিত সকলকে উচ্ছসিত করেছে। 

হারুন, সফিক, শানু মাঝিরা বলেন, অতীতের সরকার আমাগোরে শুধু চাল দিতো। এ চাল কখনো পেতাম আবার কখনো তা দলের লোকেরা লুটে নিতো, কিন্তু এ সরকারের অল্প সময়কালেই আমরা চাল-তো পেয়েছিই, সাথে পেয়েছি বেঁচে থাকার নিত্য পণ্য। 

জেলেরা বলেন, আমাদের মতো গরীবেরা সরকারের এমন সহায়তা পেলে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে আমরা কখনো নদী কিম্বা সাগরে মাছ মারতে যাবোনা।

জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বাসস'কে বলেন, জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের পাশে দাঁড়াতেই সরকারের এই উদ্যোগ। পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতেও তা চালু রাখা হবে।

তিনি বলেন, তবে সরকারি এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করলেও সহায়তা বিতরণের সময় নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ জানিয়েছেন কয়েক জেলে। তাদের দাবি, মার্চ মাসের শুরুতেই এসব খাদ্যসামগ্রী হাতে পেলে উপকার আরও বেশি হতো।

উল্লেখ্য, ভোলা জেলায় প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে সাধারণ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৮৮ হাজার জেলে মাসে ৪০ কেজি করে চাল সহায়তা পাচ্ছেন।