বাসস
  ৩১ মে ২০২৬, ১৬:৫৭

নেত্রকোণায় বাস চাপায় মা-মেয়েসহ নিহত ৩

নেত্রকোণা, ৩১ মে ২০২৬ (বাসস) : জেলা সদরের চল্লিশা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়েসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চল্লিশা বাইপাস মোড় এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, নেত্রকোণা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের আমলি কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরজাহান (৫০), তার কন্যা স্মৃতি আক্তার (১৮) এবং ইতি (১৫) নামে এক কিশোরী।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে নুরজাহান তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে চল্লিশা এলাকায় বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোণার উদ্দেশে ছেড়ে আসা মহুয়া পরিবহনের একটি দ্রুতগামী লোকাল যাত্রীবাহী বাস চল্লিশা বাইপাস মোড়ে পৌঁছালে অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নুরজাহান, তার মেয়ে স্মৃতি আক্তার ও ইতি নিহত হন।

এ সময় নুরজাহানের স্বামী আইনুল হক (৬০) ও অটোরিকশাচালক রেহান মিয়াসহ আরও পাঁচজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা হতাহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সবাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম  ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্থানীয় জনতা নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে নেত্রকোণা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারি এবং পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা চল্লিশা বাইপাস মোড়ে স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী স্পিডব্রেকার ও গোলচত্বর নির্মাণের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে উত্তেজিত জনতা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল ও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।