বাসস
  ২০ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪৭

জবিতে অপারেশন সার্চলাইট ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ছবি: বাসস

ঢাকা, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘অপারেশন সার্চলাইট ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা : ইতিহাসের প্রামাণ্য আখ্যানের সন্ধানে’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।   

জবি কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন। 

তিনি বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ও নির্ভুল ইতিহাস এখনো রচিত হয়নি, যা জাতির জন্য এক বড় কলঙ্ক।

উপাচার্য আরও বলেন, মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস পরিহার করে বাস্তবভিত্তিক ও নিরপেক্ষ ইতিহাস সামনে নিয়ে আসতে হবে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এখনো মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সঠিক সংখ্যা কিংবা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। জাতীয় পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এখনো সুসংহতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে একটি সমন্বিত ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে বিভক্তি ও ইতিহাস বিকৃতির প্রবণতা থেকে মুক্তির আহ্বান জানান।

সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ড. সলিমুল্লাহ খান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতে কেবল একটি সামরিক অভিযানের সূচনা নয়; ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ছিল পাকিস্তানি সামরিক জান্তার একটি সুপরিকল্পিত দমন-পীড়ন। মুক্তিযুদ্ধের সূচনা বোঝার জন্য ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি এর গভীর রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় বয়ানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো উপেক্ষিত হয়েছে। তিনি প্রামাণ্য ইতিহাস রচনায় বহুমাত্রিক উৎস, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং সমকালীন দলিলের সমন্বিত ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পাশাপাশি তিনি ইতিহাসবিদদের নতুন করে প্রশ্ন তোলা এবং তথ্যনির্ভর গবেষণার মাধ্যমে সত্য অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে যে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়, তা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গণহত্যার শামিল। তবে এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ দলিলীকরণ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে যথাযথভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (গবেষণা) অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। 
মূল বক্তব্যের ওপর আলোচনায় অংশ নেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স পরিচালক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া। 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ড. মো. আনিসুর রহমান। 

সেমিনারের শেষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের অংশগ্রহণে একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।