শিরোনাম

চুয়াডাঙ্গা, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় খাল খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।
দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শনিবার চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ডি (ড্রেনেজ) ১৫ এন খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিকেল সাড়ে ৩টায় পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি নিজ হাতে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের আগে এ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। আগে খনন করা খালগুলোর নিয়মিত তদারকি থাকলেও পরে তা অবহেলিত হয়েছে। এখন সেগুলো পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার। অতীতে খাল দখল ও অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে এসব বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান, সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। স্বাগত বক্তব্য দেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।
এর আগে পানিসম্পদ মন্ত্রী দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউসে পৌঁছালে জেলা প্রশাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ খালটি পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে। প্রথম ধাপে ৭ কিলোমিটার খনন কাজ শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর খালটি পুনঃখননের উদ্যোগে আলমডাঙ্গার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এ উদ্যোগ জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।