বাসস
  ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫২

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা শুরু

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। এই যুদ্ধ অঞ্চলটিকে সহিংসতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অভিঘাত সৃষ্টি করেছে।

ইসলামাবাদ থেকে এএফপি জানায়, ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের স্বাগতিক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ইরানি প্রতিনিধি দল তাদের মার্কিন প্রতিপক্ষদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। শরিফ পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভান্সের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ, আর ভান্সের সঙ্গে ছিলেন হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

শরিফের কার্যালয় জানায়, ‘উভয় প্রতিনিধি দলের গঠনমূলক অংশগ্রহণের অঙ্গীকারের প্রশংসা করে, প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে এই আলোচনা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার একটি ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করবে।’

ইরান এর আগে বলেছে, যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের যে কোনো চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্তকরণ এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধের অবসান অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। ভান্স বলেছেন, এসব বিষয় ইসলামাবাদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের আলোচনাস্থলে থাকা প্রতিবেদক জানিয়েছেন, তার ধারণা অনুযায়ী এসব বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে, যা ইরানকে আলোচনা এগিয়ে নিতে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। 

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই কাতারে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করতে সম্মত হয়েছে এমন প্রতিবেদনের কথা তিনি অস্বীকার করেছেন।

ইসরাইল লেবাননের সঙ্গে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে, তবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা বাতিল করেছে।

যুদ্ধরত পক্ষগুলো এখনো মূল ইস্যুগুলোতে- যার মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা, লেবানন এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর খুলে দেওয়া- অনেক দূরে অবস্থান করছে এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস গোপন করেনি।

কালিবাফ পাকিস্তানে নামার পরপরই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আমাদের অভিজ্ঞতা সবসময় ব্যর্থতা এবং ভঙ্গ প্রতিশ্রুতির মুখোমুখি হয়েছে।’

‘মেক অর ব্রেক’

ভান্স যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে বলেন, যদি অপর পক্ষ ‘সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা করতে চায়, আমরা অবশ্যই উন্মুক্ত হাত প্রসারিত করব।’

কিন্তু ‘যদি তারা আমাদের নিয়ে খেলা করতে চায়, তাহলে তারা দেখবে যে আলোচক দল ততটা সহনশীল হবে না,’ তিনি যোগ করেন।

চলমান যুদ্ধবিরতি ইতিমধ্যেই চাপের মুখে রয়েছে, বিশেষ করে লেবাননে ইসরাইলের চলমান হামলার কারণে, যাকে ইরান ও পাকিস্তান বলছে বর্তমান যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, শেষ মুহূর্তে যার দেশের মধ্যস্থতা দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে এনেছে, বলেছেন আলোচনা সহজ হবে না।

‘আরও কঠিন একটি ধাপ সামনে রয়েছে,’ তিনি বলেন, এই পর্যায়কে ইংরেজিতে বলা হয় ‘মেক অর ব্রেক’।

‘পরমাণু অস্ত্র নয়’

মার্কিন পক্ষ থেকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসলামাবাদের আলোচনায় তার প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কোনো পরমাণু অস্ত্র নেই তা নিশ্চিত করা। ‘এটাই ৯৯ শতাংশ বিষয়,’ তিনি বলেন।

শনিবার পাকিস্তানের রাজধানীতে নিরাপত্তা ছিল কঠোর, রাস্তায় ভারী পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং সরকারি ও কূটনৈতিক ভবনসংলগ্ন ‘রেড জোন’ এলাকায় রাস্তা বন্ধ রাখা হয়।

এক কূটনৈতিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, পাকিস্তান নৌপরিবহন, পারমাণবিক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনায় দুই পক্ষকে সহায়তা করার জন্য বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে।

আলোচনাগুলো অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিরও ঘনিষ্ঠ নজরে থাকবে। মিশর ও তুরস্ক মধ্যস্থতায় সহায়তা করেছে, একই সঙ্গে চীনও যুক্ত ছিল এবং পাকিস্তান এসব দেশের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখেছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

তেহরানে এক ৩০ বছর বয়সী বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, তিনি আলোচনার সফলতা নিয়ে সন্দিহান এবং ট্রাম্পের বেশিরভাগ বক্তব্যকে ‘শুধু শব্দ এবং অর্থহীন কথা’ বলে বর্ণনা করেন।