শিরোনাম

ভোলা, ৩০ মার্চ ২০২৬ (বাসস) : উপকূলীয় জেলা ভোলার ৪১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার (২৯ মার্চ ২০২৬) দিনভর জেলার দৌলতখান, বোরহানউদ্দীন, তজুমুদ্দীন ও মনপুরা উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
ভোলা-২ (দৌলতখান ও বোরহানউদ্দীন) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ হাফিজ ইব্রাহিম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি অনুষ্ঠানে দৌলতখান ও বোরহানউদ্দীনে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করেন।
প্রতিটি উপজেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন, সরকারের এই উদ্যোগ শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিশুদের সুস্থ বিকাশে সহায়ক হবে।
স্কুল ফিডিং বাস্তবায়নকারী সংস্থা গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এবং সংস্থার বাস্তবায়নে কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে দৌলতখান উপজেলার ১০৬টি, বোরহানউদ্দীন উপজেলার ১৫৬টি, তজুমুদ্দীন উপজেলার ১১০টি এবং মনপুরা উপজেলার ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৫২,৭২৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য ডিম, কলা, রুটি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার অতিরিক্ত পরিচালক ও প্রকল্প সমন্বয়কারী ডা. খলিলুর রহমান জানান, এই প্রকল্পের আওতায় ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, রাজবাড়ি ও গোপালগঞ্জ জেলার মোট ২, ৬৭৩টি প্রতিষ্ঠানে ৩,৬১,৭৩৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ডিম, রুটি ও কলা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। যা আগামী ১ বছর পর্যন্ত চলবে।
জিজেইউএস-এর নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করবে, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াবে এবং ঝরে পড়া কমাবে। এ সংস্থাটির সাথে যৌথভাবে সরকার যে উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে, তা শিশুদের সুস্থ ও শিক্ষিত ভবিষ্যৎ গঠনে সহযোগী হবে।
জেলার বোরহানউদ্দীন উপজেলার ১ নং বোরহানউদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কাজী মো. আজম এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মেহেদী মাসুদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ মণ্ডল এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. নাজনীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, জেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার সিআরইএ প্রকল্পের সমন্বয়কারী বাবুল আখতার। স্বাগত বক্তব্য দেন, সংস্থাটির পরিচালক (মনিটরিং ও ট্রেনিং) মো. হুমায়ুন কবির।
দৌলতখান উপজেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান সাজু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার-পরিচালক (মাইক্রোফাইন্যান্স) মো. মোস্তফা কামাল। সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহিদ উদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন জিজেইউএস-এর এরিয়া ইনচার্জ প্রিয়লাল মণ্ডল। এ সময় সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তহিদুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক মো. মজির উদ্দিন ও মাহাবুব আলম, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তজুমুদ্দীন উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং মনপুরা উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।