শিরোনাম

আব্দুল কাইয়ুম
ময়মনসিংহ, ১৪ মার্চ ২০২৬ (বাসস): পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পুরোপুরি জমে উঠেছে ময়মনসিংহের ঈদ বাজার। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জেলা শহরের বিভিন্ন বিপণিবিতান, মার্কেট ও শপিংমলে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও শিশুদের জন্য নতুন পোশাক কিনতে প্রতিদিনই মার্কেটগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে নগরীর গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, চড়পাড়া এলাকার প্রধান প্রধান কেনাকাটার কেন্দ্রগুলো।
এবারের ঈদ বাজারে দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। শোরুমগুলোতে বাহারি ডিজাইন ও নতুন ফ্যাশনের শাড়ি, থ্রি-পিস, গারারা, সারারা, ফারসি, আভিয়া, টপস, শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট ও পাঞ্জাবি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতারা দোকান ঘুরে ঘুরে পোশাক দেখছেন এবং দর-কষাকষি করে পছন্দের পোশাক কিনে নিচ্ছেন।
তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর পোশাকের দাম কিছুটা বেশি বলে অভিযোগ করছেন অনেক ক্রেতা। বিশেষ করে আমদানিকৃত পোশাক ও কসমেটিকসের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেককেই বাজেট সামলে কেনাকাটা করতে হচ্ছে।
ঈদের কেনাকাটা করতে আসা লাইলাতুল জান্নাত লাইলী বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পোশাক ও কসমেটিকসের দাম অনেক বেশি। যে বাজেট নিয়ে শপিং করতে এসেছি, প্রায় দ্বিগুণ খরচ হয়ে যাচ্ছে।’
আরেক ক্রেতা ফরিদা বেগম জানান, ‘তিনটি ড্রেস কেনার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় একটি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।’ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর দুইটি করে পাঞ্জাবি কিনি। কিন্তু এবার দাম বেশি হওয়ায় একটি কিনেই চলতে হচ্ছে।’
পরিবারের জন্য কেনাকাটা শেষ করে তাসমিয়া জান্নাত বলেন, ‘মার্কেটে অনেক নতুন ডিজাইনের পোশাক এসেছে। কোনটা নেব আর কোনটা বাদ দেব, সেটা ঠিক করাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে আমার জন্য।
পোশাকের দোকানের পাশাপাশি কসমেটিকস ও গহনার দোকানগুলোতেও দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে গহনা ও প্রসাধনী কিনছেন। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এসব পণ্যের চাহিদা বেশি। তবে এখানেও গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
বারী প্লাজা মার্কেটের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বাবু জানান, “এবার গারারা, সারারা, ফারসি, আভিয়া ও পাকিস্তানি থ্রি-পিসের চাহিদা বেশি। সুতি ও জর্জেট থ্রি-পিসও ভালো বিক্রি হচ্ছে। বেচাকেনা মোটামুটি ভালো।”
তবে অন্যান্য পোশাকের দোকানে ভিড় থাকলেও শাড়ির দোকানগুলোতে তুলনামূলক কম ক্রেতা দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে তরুণীদের মধ্যে থ্রি-পিস ও ওয়েস্টার্ন পোশাকের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় শাড়ির বাজার কিছুটা মন্দা যাচ্ছে।
দাম কিছুটা বেশি থাকলেও বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরা। তাদের আশা, ঈদের আগের কয়েকদিনে কেনাকাটার চাপ আরও বাড়বে এবং বিক্রি বাড়বে কয়েকগুণ।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ-আল-মামুন বাসসকে বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে মার্কেটগুলোতে চুরি ও ছিনতাই রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন, সে জন্য টহল বাড়ানো হয়েছে এবং সাদা পোশাকের পুলিশও দায়িত্ব পালন করছেন।”
ঈদের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে ছুটির দিনেও সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা থাকছে শহরের বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল। দিন যত যাচ্ছে, ততই প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠছে ময়মনসিংহের ঈদ বাজার। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে ক্রেতাদের ঢল নামবে এবং এবারের ঈদ মৌসুমে বেচাকেনা সন্তোষজনক হবে। বাসস/এনডি/সংবাদদাতা/