বাসস
  ০৩ জুন ২০২৬, ১১:০০
আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ১২:১৬

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিগগিরই দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ফাইল ছবি

ঢাকা, ০৩ মে, ২০২৬ (বাসস) : নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার শিগগিরই দেশব্যাপী একটি সচেতনতামূলক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। এই সামাজিক ব্যাধি দমনে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তোলা অপরিহার্য বলে মনে করছে সরকার।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো একটি চলমান প্রক্রিয়া, তবে মাঝেমধ্যে এই কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হয়। মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব আমাদেরই।’

তিনি আরও বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ভূমিদস্যুতার পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধেও সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।

সম্প্রতি দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করা নারী ও শিশু নির্যাতনের বেশ কিছু ঘটনার উল্লেখ করে ডা. জাহিদ বলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় শিগগিরই জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করবে।

তিনি জানান, ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে, এই কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন খাতের পেশাজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

একই সঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী ডা. জাহিদ জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। 

তিনি সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মানুষকে আইন সম্পর্কে সচেতন করা, তাদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জানানো ও কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ সে বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া জরুরী।’

নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গণমাধ্যমকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সাংবাদিক ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ‘মূলধারার গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমকে জোরদার করতে হবে।’

বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে কোনো দুর্বলতা রয়েছে কি না- জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. জাহিদ বলেন, দেশের আইনগুলো মোটামুটি যথেষ্ট, তবে এটি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ই এখন বড় উদ্বেগের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, ‘আইনি কাঠামোতে বড় কোনো দুর্বলতা নেই। মূল সমস্যাগুলো রয়েছে আইন প্রয়োগ, মানুষের মানসিকতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের মধ্যে।’

মানুষের মানবিকতাবোধ, ন্যায়বিচার ও সামাজিক দায়বদ্ধতা জোরদার করতে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার আরও প্রসারের ওপরও জোর দেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ করা কেবল কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, এর জন্য সরকার, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘একমাত্র ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই নারী ও শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে পারে।’

এদিকে, শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে হত্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন যে আগামী এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, সরকার কোনোভাবেই এ ধরনের শিশু নির্যাতন বা নারীর ওপর সহিংসতা বরদাশত করবে না।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় জীবনে দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।