বাসস
  ১১ মার্চ ২০২৬, ০০:৩২

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় একসাথে কাজ করার আহ্বান

ছবি : বাসস

রংপুর, ১০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : আজ এক আলোচনা সভায় কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞগণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগে হতাহত এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে সকল অংশীজনদের একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রংপুর জেলা প্রশাসন জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করে।

এর আগে, সকালে নগরীতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। জেলা কালেক্টরেট ভবন প্রাঙ্গণে রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্তৃক ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে একটি মক ড্রিল এর আয়োজন করা হয়।

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রমিজ আলম। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া।

এছাড়াও, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হোসাইন, রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক মো. বাদশা মাসুদ আলম প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসের মূল লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

তিনি বলেন, ‘যদিও নদী ভাঙন, খরা, বন্যা, বজ্রপাত এবং ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তবুও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক ও সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, গ্যাস বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো মানবসৃষ্ট দুর্যোগ কেবল সচেতনতা এবং সতর্কতার মাধ্যমেই প্রশমিত করা সম্ভব।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে প্রায় চার হাজার আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে প্রায় ৭৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন।

দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি এবং দুর্যোগের সময় ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

তিনি প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, যুবসমাজ এবং সাধারণ জনগণকে দুর্যোগের ধরণ অনুসারে দুর্যোগ মোকাবেলায় একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

সমাপনী বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রমিজ আলম বলেন, গুজব ছড়ানোর পরিবর্তে দুর্যোগ সংঘটিত হওয়ার পরে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সঠিক এবং যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিনি বলেন, ‘বর্তমানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য এবং আইন অনলাইনে সহজেই পাওয়া যায়, যা আমাদের সকলের জানা উচিত।

আলোচনা সভায় সরকারি কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের সদস্য, সাংবাদিক, এনজিও কর্মী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।