বাসস
  ০৯ মার্চ ২০২৬, ২১:০৪

খুলনা মহানগরীকে যানজটমুক্ত করতে কেসিসির যৌথসভা 

ছবি : বাসস

খুলনা, ৯ মাচর্, ২০২৬ (বাসস) : মহানগরীর যানজট নিরসনকল্পে এক যৌথসভা আজ নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেএমপির ট্রাফিক বিভাগ, পায়ে চালিত ও ব্যাটারি চালিত রিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি ও মাহেন্দ্র মালিক ও চালক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে এ সভা আজ সকালে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। 

কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। যানজট সম্পর্কিত পত্রিকায় প্রকাশিত জনভোগান্তির সংবাদ ও জনগণের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কেসিসি এ সভার আয়োজন করে।

সভায় কেএমপির ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যানজটের জন্য অননুমোদিত ইজিবাইক ও রিকশা ছাড়াও ডিভাইডারসমূহে ঘন ঘন ইউটার্ন রাখা, সড়কে পর্যাপ্ত জেব্রা ক্রসিং না থাকা, গুরুত্বপূর্ণ মোড়সমূহে যাত্রী ওঠানো ও নামানো, ইজিবাইক ও রিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকা, বড় বড় মার্কেট, হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের নিজস্ব পার্কিং স্পেস না থাকায় সড়কের ওপর অসংখ্য গাড়ি ও বাইক পার্কিং করে রাখাসহ ভ্রাম্যমাণ হকাররাও যানজট সৃষ্টির জন্য সমান দায়ী।

বক্তারা বলেন, নগরীর শিববাড়ি, পাওয়ার হাউজ ও ফেরিঘাট মোড়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়সমূহের যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সড়কে স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপনের কাজ রাতে করা ইত্যাদি উদ্যোগের মাধ্যমে যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

যানজট মুক্ত নগরী গড়ে তুলতে কেসিসির যে কোনো কার্যক্রমে ট্রাফিক বিভাগ সব ধরনের সহযোগিতা করবে মর্মে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে সভায় জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, নগরীতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য কেসিসি কর্তৃক প্রায় ১০ হাজার ইজিবাইক চলাচলের অনুমতি দেওয়া আছে। এছাড়া ১৭ হাজার রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হলেও ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে রিকশার লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে মাত্র ৬৮০টি। আদালতে মামলা চলমান থাকায় রিকশার লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। অনুমোদনের বাইরে অধিকাংশ ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিকশা বাইরে থেকে শহরে প্রবেশ করে। 

বাইরের ইজিবাইকের প্রবেশ বন্ধ করা গেলে যানজট অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে সভায় জানানো হয়।

সভাপতির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, শহরে যান চলাচলের বিষয়টি আমরা সুশৃঙ্খল করতে চাই। জনগণকে একটি সুন্দর শহর উপহার দিতে হলে যানজট নিরসন করা অপরিহার্য। সামগ্রিক বিষয়ে পর্যালোচনা করে রিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। এতে কেউ স্বল্প ক্ষতির সম্মুখীন হলেও জনস্বার্থে তা মেনে নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাস ও ট্রাকগুলিকে স্ট্যান্ডের মধ্যে রাখতে বাধ্য করা, নির্মাণ সামগ্রী সড়কে না রাখা, ব্যবসায়ী কর্তৃক দোকানের সামনে সড়কের ওপর পণ্য রাখতে না দেয়া, সড়কে যত্র-তত্র গাড়ি পার্কিং না করা এবং দীর্ঘ মেয়াদে রিকশা ও ইজিবাইকের জন্য স্ট্যান্ড নির্মাণ ও হকারদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম, কেএমপির ডিসি (ট্রাফিক) শফিকুল ইসলাম, এডিসি (ট্রাফিক) মো. ছয়রুদ্দীন আহমেদ, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মো. আবু বকর সিদ্দিক, কেসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশিদ, সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মো. মনিরুজ্জামান রহিম, লাইসেন্স অফিসার মো. দেলওয়ার হোসেনসহ পায়ে চালিত ও ব্যাটারি চালিত রিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি ও মাহেন্দ্র মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন।