বাসস
  ০৩ জুন ২০২৬, ১৬:৪৭

ময়মনসিংহে বিএনপি কর্মী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জামায়াত নেতার পুত্রসহ গ্রেফতার ৪

ছবি : বাসস

ময়মনসিংহ, ৩ জুন ২০২৬ (বাসস): পূর্ববিরোধের জের ধরে বিএনপি কর্মী রানা মিয়া (৩৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জামায়াত নেতার পুত্রসহ ৪ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।  

ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন আজ দুপুরে বাসসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পূর্ববিরোধে কথা কাটাকাটির জের ধরে আসামিদের সংঘবদ্ধ হামলায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে রাজনৈতিক কোন সম্পৃক্ততা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ঘটনার তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য জানানো যাবে।  

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম ওরফে মফিদুল মাস্টারের পুত্র মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (২০), স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন (৪০), হুমায়ুন কবীর আকাশ (২৩) এবং মনিরুল ইসলাম (২৪)।    

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের চর ঈশ্বরদিয়া এলাকার একটি মুদি দোকানের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় রানা মিয়া তার ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।  

নিহত রানার স্বজনরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কাজ করে ধানের শীষে ভোট দিয়েছিলেন নিহত রানা ও তার পরিবারের সদস্যরা। এরপর থেকেই প্রতিবেশী জামায়াত নেতা মফিদুল মাস্টার ও তার লোকজনের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, নিহত রানা বিএনপির কর্মী। বিগত সংসদ নির্বাচনে সে দলের পক্ষে কাজ করেছে। এতে ক্ষুব্ধ গুপ্ত সংগঠনের নেতাকর্মীরা আমাদের দলের নিবেদিত এই প্রাণকে খুন করেছে। ইতোমধ্যে খুনিদের কয়েকজন গ্রেফতার হলেও বাকিরা এখনো পলাতক। আশা করছি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করবে।