বাসস
  ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:০২
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:২০

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি মির্জা ফখরুলের

বুধবার বনানী সামরিক কবরাস্থানে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : বাসস

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ( বাসস) : বিডিআর হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ বুধবার সকালে বনানী সামরিক কবরাস্থানে বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতি স্তম্ভের বেদিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে, বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবার জন্যে, একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, বিগত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংগত করা এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবার একটা বড় সুযোগ পেয়েছে। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,  আমরা বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অতীতের মত একইভাবে তার যে মূল লক্ষ্য, বাংলাদেশকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করা, তা অর্জন করবে। 

তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের একটা নিরপেক্ষ তদন্ত করে, এই ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি ও শক্তিদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার মাধমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করবে। 

এ সময় বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা পিলখানা হত্যাকান্ডের সেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং তাদের পরিবার পরিজনদের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাচ্ছি। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের আমরা তদন্ত দাবি করছি।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন হত্যাকাণ্ডের এই দিনটি আমাদের জাতির জন্যে অত্যন্ত লজ্জার ও কলঙ্কজনক একটি অধ্যায় বলে আমরা মনে করি। যারা সেদিন শহীদ হয়েছেন, আমরা আজকে জাতীয়তাবাদী দল ও দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ও তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করতে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, এই দিনটিকে আমরা সবচেয়ে কলঙ্কজনক এই জন্য মনে করি এই জন্য যে এই দিনে বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তাকে ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দেওয়ার একটা গভীর চক্রান্ত করা হয়েছিল ও সেই প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিলো। চৌকশ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে মনোবল ও একই সঙ্গে বাংলাদেশের যে মনোবল, সেটাকে ভেঙে দেওয়ার জন্য একটা গভীর চক্রান্ত হয়েছিল এ দিনে।

এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন— অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মিজানুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিদ্দিকুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার জাহিদ হোসেন, জাগপা’র চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান, বিডিআর-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকির আহমেদ ভুঁইয়া ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ নিহত হন। 

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছর বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভীষিকাময় ও শোকাবহ এ দিনটিকে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে, সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের স্মৃতি বেদিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রদ্ধা জানান।

ফুল দেওয়ার পর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট জানান। 

পরে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, তিন বাহিনী প্রধান যথাক্রমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।  

পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য ও নিকট আত্মীয়রাও এ সময় বনানীর সামরিক কবরস্থানে উপস্থিত ছিলেন।