বাসস
  ১২ আগস্ট ২০২৬, ২১:২১

সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন : গ্রেফতার ১

সিলেট, ১২ আগস্ট ২০২৬ (বাসস) : নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় সংঘটিত ট্রিপল মার্ডার মামলার রহস্য মাত্র সাত ঘণ্টায় উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতলায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। বিকেল সাড়ে চারটায় রায়নগর আফতাব মিয়ার কলোনী থেকে তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সরোয়ার মুর্শেদ শামীম।

তিনি জানান, বাসার কাজের মেয়ে তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে মনোমালিন্য দেখা দিলে বুধবার সকালে মেয়েটির সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলে সে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে বাধা দেওয়ায় গৃহকর্ত্রী সুরাইয়াকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। চিৎকার শোনে গৃহকর্তা এম আব্দুস সাত্তার এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায় বাবুল। পরে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

আটক বাবুল মিয়ার বাড়ি চাঁদপুরে। সে ছোটবেলা থেকে সিলেট নগরে বসবাস করছে। পেশায় সে একজন কসাই।

আজ বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে তাহমিনাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত অন্য দুইজন ওই বাসার বাসিন্দা এম আব্দুস সাত্তার ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম।

পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনেরই গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তাহমিনার বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক দোয়ারাবাজার এলাকার বরইকান্দি গ্রামে। তার বাবা আপ্তাব মিয়া পেশায় একজন দিনমজুর, মা নাজমা বেগম একজন গৃহিনী ও দিনমজুর।

নিহত দম্পতি সিলেট চেম্বারের সদস্য এম আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। আব্দুস সাত্তারের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে রায়নগরের মিতালী ১১১, নিকুঞ্জ ভিলার দোতলায় নিজ বাসায় হত্যাকণ্ডের শিকার হন এম আব্দুস সাত্তার। হত্যাকাণ্ডের সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। এ কারণে পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও এবং বাসাটিতে নিজস্ব ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও কোনো ফুটেজ ধরা পড়েনি।

পুলিশ জানায়, আটক বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আর কোনো মোটিভ ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।