বাসস
  ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩২

মোংলা বন্দরে ছয় মাসের মধ্যে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা নৌপরিবহন মন্ত্রীর 

নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম শনিবার মোংলা বন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ছবি: বাসস

মোংলা, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে মোংলা বন্দর ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। 

আজ শনিবার দুপুরে প্রথমবারের মতো মোংলা বন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে মোংলা বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এর বিদ্যমান সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই মোংলা বন্দরে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে।

তিনি জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম আরও বেশি করে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, লজিস্টিক সুবিধা ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে মোংলা বন্দরও অচিরেই চট্টগ্রাম বন্দর-এর মতো একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর সমুদ্রবন্দরে পরিণত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনায় মোংলা বন্দরকে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উন্নয়নের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের সম্ভাবনাকে শতভাগ কাজে লাগিয়ে এটিকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সক্ষম বন্দরে রূপান্তর করা হবে।

প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাতিল বা স্থগিত উন্নয়ন চুক্তি পুনরায় চালুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ সর্বাগ্রে বিবেচনা করে সেসব চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা হবে। যেসব চুক্তিতে দেশের আর্থিক বা কৌশলগত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলো গভীরভাবে মূল্যায়ন ছাড়া পুনরায় কার্যকর করা হবে না।

মন্ত্রী জানান, মোংলা নদীর ওপর একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি নতুন রেল কোচ ও ইঞ্জিন সংযোজনের মাধ্যমে মোংলা-খুলনা রেলপথে একাধিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও সহজ ও দ্রুত হয়।

এর আগে তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।