বাসস
  ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪২
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৫

একুশের প্রথম প্রহরে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

যথাযথ মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে রংপুর। ছবি : বাসস

রংপুর, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ( বাসস) : যথাযথ মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে রংপুর। একুশের প্রথম প্রহরে, শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ।

শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর সিটি করপোরেশন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।এ সময় পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় দিবসের সব কর্মসূচি।

একই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহানগর কমিটির পক্ষ থেকেও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামুর নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় মহানগর ও জেলা বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনেরও পক্ষ থেকেও পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

বক্তারা বলেন, ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় যে আত্মত্যাগ বাঙালি জাতি করেছে, তা কেবল একটি ভাষা আন্দোলন ছিল না-এটি ছিল জাতিসত্তা ও আত্মপরিচয়ের সংগ্রাম। ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সেই চেতনার ধারাবাহিকতাই পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করে।

রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা স্বাধীনভাবে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করা শুধু রাষ্ট্রের নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে।’

রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন,একুশ আমাদের শিখিয়েছে অধিকার আদায়ে আপসহীন হতে। ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই বাঙালি জাতি পরবর্তীতে স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হয়। এই চেতনাই আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে প্রেরণা জোগাবে।

ভোর হতে না হতেই শহীদ মিনারে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের ঢল নামে। ফুল, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণী কালো ব্যাজ ধারণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে একুশের চেতনা আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত সবাই এক কণ্ঠে অঙ্গীকার করেন-মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা, শুদ্ধ ভাষা চর্চা এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার।

সার্বিকভাবে, রংপুরে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ছিল সুশৃঙ্খল, ভাবগম্ভীর ও শান্তিপূর্ণ-যা ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং একুশের চেতনাকে আরও দৃঢ়ভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়। এদিকে একুশের প্রভাত ফেরীতেও ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের। ভোর থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একুশের এই মহান দিনে সকলের চাওয়া সর্বস্তরে হউক বাংলা ভাষার ব্যবহার।